নিজস্ব প্রতিবেদক: বাবলু বড়ুয়া, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম নগরীর ফয়েজ লেক এলাকায় কক্সবাজারগামী এক তরুণ বাইকারকে অপহরণ, মারধর ও ডাকাতির ঘটনায় এক পুলিশ কনস্টেবলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) খুলশী থানা পুলিশ। এ সময় ভুক্তভোগীর ছিনতাই হওয়া প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের একটি ইয়ামাহা আর১৫ আর২এম মোটরসাইকেলসহ মোট তিনটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সদস্য।
যেভাবে অপহরণ ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী মারুফুর রহমান অপু (২২) গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১০টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে তিনটি মোটরসাইকেলে কক্সবাজার ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে খুলশী থানাধীন ফয়েজ লেক চক্ষু হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মেরুন রঙের প্রাইভেট কার ও দুটি মোটরসাইকেল তাঁর পথরোধ করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গাড়ি থেকে নেমে আসা ব্যক্তিরা মারুফের মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নেন এবং তাঁকে গালিগালাজ ও এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক প্রাইভেট কারে তুলে নেওয়া হয়।
এজাহারের বিবরণে আরও বলা হয়, অপহরণকারীরা তাঁকে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানোর পর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শেরশাহ এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে তাঁর প্রায় ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ভিভো মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে চলন্ত গাড়ি থেকে তাঁকে রাস্তায় ফেলে রেখে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ফেসবুকে মোটরসাইকেল বিক্রির সূত্র ধরে গ্রেপ্তার
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার কয়েক দিন পর ভুক্তভোগী মারুফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘অনিক’ নামের একটি আইডিতে মোটরসাইকেল বিক্রির স্টোরি দেখতে পান। সেখানে নিজের ছিনতাই হওয়া অন-টেস্ট ‘Yamaha R15 R2M’ মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করার দাবি করেন তিনি।
পরে ক্রেতা সেজে মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকায় মোটরসাইকেল কেনাবেচার বিষয়ে চুক্তি করেন এবং পাঁচ হাজার টাকা অগ্রিম দেন। মোটরসাইকেল হস্তান্তরের স্থান হিসেবে বায়েজিদ লিংক রোড পুলিশ বক্সের সামনে নির্ধারণ করা হয়। বিষয়টি খুলশী থানা পুলিশকে জানানো হলে সেখানে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
গত ২০ অক্টোবর খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে এসআই গোলাম মোহাম্মদ নাসিম হোসেন, এসআই মো. জালাল আহমেদ, এএসআই মো. জাকির হোসেন ও এএসআই মো. এরশাদ আলমসহ পুলিশের একটি দল বায়েজিদ লিংক রোড এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানে প্রথমে অনিক দাশ (২৭) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বান্দরবান জেলা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত একজন কনস্টেবল। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়তলী থানাধীন বিটাক বাজার এলাকা থেকে ওয়াহিদ মোহাম্মদ জেবল হোসেন অনিক ওয়াহিদ (৩৯) ও মহিউদ্দিন সেলিম (৫২) নামের আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়তলীর ফইল্লাতলি বাজার এলাকার একটি গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ ওয়াহেদ নাছির ডায়মন্ড (৩৮) নামের আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধার তিন মোটরসাইকেল, মামলা দায়ের
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে ওই গ্যারেজ থেকে ভুক্তভোগীর ছিনতাই হওয়া প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের Yamaha R15 R2M মোটরসাইকেল এবং অপরাধে ব্যবহারের অভিযোগে আরও দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে তিনটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজন এবং তাঁদের অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় দণ্ডবিধির ৩৬৫, ৩৯৫, ৩৯৭ ও ৪১২ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ২৯ নম্বরে নথিভুক্ত করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply