
বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ ফরহাদুল ইসলাম জুয়েল
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং পরে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে শুকুর আলী (৫০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা না করা, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া ও ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছে তার পরিবার।
অভিযুক্ত শুকুর আলী উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি ছয় সন্তানের জনক বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ, প্রায় চার মাস আগে তিনি শুকুর আলীর বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করতে যান। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি শুকুর আলীকে জানালে তিনি গর্ভপাত করানোর প্রস্তাব দেন। পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে কুড়িগ্রামের একটি ক্লিনিকে নিয়ে গর্ভপাত করানো হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
তার অভিযোগ, গর্ভপাতের পরও বিয়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি শুকুর আলী। বরং তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। সর্বশেষ গত ১ অক্টোবর সকালে বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, বিয়ের বিষয়ে চাপ দেওয়ায় ওই তরুণীকে অপমান ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এ অবস্থায় ন্যায়বিচার পেতে আইনি প্রতিকার চাইছেন ভুক্তভোগী।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, দরিদ্র পরিবারের ওই তরুণী ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
ভুক্তভোগীর বাবা মারা গেছেন। প্রতিবন্ধী ভাই ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে তার সংসার। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শুকুর আলীর বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (তদন্ত) দায়িত্বে থাকা কমল বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। ওসি স্যার ছুটিতে আছেন।”
উল্লেখ্য, ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply