1. dailychatoniaymuktijuddha@gmail.com : admin :
October 11, 2026, 10:27 pm
Title :
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ, আহত বাংলাদেশিদের পাশে ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ,তবু বেহাল কসবা-আখাউড়া সড়ক;দুর্ভোগে কয়েক লাখ মানুষ খাগড়াছড়িতে স্টোররুম থেকে সাবেক সেনা সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বুড়িচংয়ে দীর্ঘদিন কারানির্যাতিত বিএনপি নেতা আবু ইউসুফ তুহিনের জন্মদিন পালিত মানব পাচার থেকে ফিরে আসা নারীদের স্বাবলম্বী করতে ব্যবসায়িক উপকরণ বিতরণ ভবানীগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বেহাল রাস্তা, জলাবদ্ধতা ও ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী নাগরপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক শাহজাহান সাজুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি নেতা মাইনুল আলম খান কনক চিহ্নিত ভূমিদস্যু ইয়াসিন আলী চুন্না কামরুলের ছত্রছায়ায় নিউ সোনা ভাটা বেদখল পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা

১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ,তবু বেহাল কসবা-আখাউড়া সড়ক;দুর্ভোগে কয়েক লাখ মানুষ

জাহাঙ্গীর আলম
  • Update Time : Sunday, October 11, 2026
  • 23 Time View

জাহাঙ্গীর আলম
জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা-আখাউড়া সড়কের ১১ কিলোমিটার অংশ উন্নয়ন ও কার্পেটিংয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৩ কোটি ২৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। ২০২৪ সালের জুনে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন হয়নি। বরং প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। এদিকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কসবা ও আখাউড়া উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ।

সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ফলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে রোগী, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা চললেও সংস্কারকাজের গতি আশানুরূপ নয়। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে সড়কের গর্তে পড়ে যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চালকদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে থাকায় সেগুলোর গভীরতা বোঝা যায় না। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

গর্তে পড়ে নষ্ট হচ্ছে গাড়ি, বাড়ছে ব্যয়

সিএনজিচালক শফিক বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন গাড়ি চালাতে হয়। রাস্তার যে অবস্থা, তাতে গাড়ি চালানো খুবই কষ্টকর। গর্তে পড়ে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। মেরামতে বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে। যাত্রীদের নিয়েও ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করতে হয়। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা হলে আমাদের কষ্ট অনেকটা কমবে।’

নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী লোকমান বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কোথাও বড় গর্ত, কোথাও পিচ উঠে গেছে। বৃষ্টি হলে গর্তে পানি জমে থাকায় বোঝা যায় না কতটা গভীর। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চলছে। দ্রুত কাজ শেষ করে আমাদের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানাই।’

১৩ কোটি টাকার প্রকল্প, মেয়াদ বাড়ল আট মাস

কসবা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করে। তবে সড়কের বেহাল অবস্থা এবং উন্নয়নকাজের ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় সড়কটির ১১ কিলোমিটার অংশ উন্নয়ন ও কার্পেটিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৩ কোটি ২৩ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। কাজটি পেয়েছে কিশোরগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মমিনুল হক।

২০২৪ সালের জুনে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। এতে প্রকল্পটির মেয়াদ প্রায় আট মাস বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যেসব স্থানে কাজ চলছে, সেখানেও অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। কোথাও কোথাও নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে কাজের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন ও পরীক্ষার তথ্য প্রয়োজন।

বৃষ্টির কারণে দেরি, দাবি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের

কাজের বিলম্বের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি খায়রুল হাসান বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে কাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে।’

অন্যদিকে, কাজের ধীরগতি ও সড়কের বেহাল অবস্থার বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আমিনুল ইসলাম সুমন বলেন, কাজের ধীরগতির কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া বলেন, সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও বিষয়টি তুলে ধরা হবে।

দ্রুত সংস্কার ও কাজের মান নিশ্চিত করার দাবি

সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের। তাই প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া, নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ১৩ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের এ প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হলে কসবা ও আখাউড়া উপজেলার মানুষের যাতায়াতব্যবস্থা আরও সহজ ও নিরাপদ হবে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও কাজের অগ্রগতি নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তার অবসানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি জরুরি।

এলাকাবাসীর দাবি, শুধু প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো নয়, বরং কাজের বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করে দ্রুত সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে হবে। এতে জনদুর্ভোগ কমার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ঢাকা থেকে প্রকাশিত  বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা    

© All rights reserved © 2018 News Smart

Themes By ShimantoIT.com