
আবু নাঈম রিপন,নরসিংদী প্রতিনিধি:
জন্ম থেকেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সাত বছরের শিশু সোহানা। ঠিকমতো হাঁটতেও পারে না সে। অভিযোগ রয়েছে, মা-বাবা তাকে ফেলে চলে গেছেন। এমন অসহায় পরিস্থিতিতে শিশুটির চিকিৎসা, নিরাপদ আশ্রয় ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পাশে দাঁড়িয়েছেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক নরসিংদী সদরের বানিয়াছল এলাকায় শিশুটিকে দেখতে যান। এ সময় সোহানার চিকিৎসা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তার জন্মনিবন্ধন, প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা ও পরিচর্যা এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশুটির মা-বাবার সন্ধান চলছে। তাঁদের খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজনে সরকারি শিশু পরিবারে সোহানার নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সোহানার জীবনে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন আম্বিয়া বেগম। নিজেরই দুবেলা খাবার জোটানো কঠিন হলেও ভিক্ষা করে পাওয়া সামান্য অর্থ থেকে শিশুটির মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে সীমিত সামর্থ্য নিয়েই শিশুটিকে আগলে রেখেছেন এই বয়স্ক ও অসচ্ছল নারী।
আম্বিয়া বেগমের এই নিঃস্বার্থ মানবিকতার জন্য জেলা প্রশাসক আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
মা-বাবার স্নেহ ও নিরাপদ আশ্রয় থেকে বঞ্চিত সোহানার পাশে দাঁড়িয়ে জেলা প্রশাসন তার চিকিৎসা, নিরাপত্তা, পরিচর্যা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
একটি শিশুর জন্য নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা, ভালোবাসা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সোহানার জীবনেও সেই নিরাপত্তা ও সুন্দর ভবিষ্যতের আলো ছড়িয়ে পড়ুক—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply