মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর প্রতিনিধি:
যশোরে ৭৫ লাখ টাকা কাবিনের দাবিতে বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙে দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক যুবককে ছয়টি মামলায় হয়রানি এবং তাঁর বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে এক মেয়ের বাবা ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) হামলার পাশাপাশি তাঁর গাড়ির গতিরোধ করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী তামিম আবু উমামা।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তামিম।
সংবাদ সম্মেলনে তামিম আবু উমামা বলেন, তিনি যশোর শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়া, ঢাকা রোড এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। গত আড়াই বছর ধরে একটি পক্ষের ষড়যন্ত্র, মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচারের কারণে তিনি এবং তাঁর পরিবার চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তামিমের অভিযোগ, যশোর শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়া কদমতলা এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন (৪৭), তাঁর মেয়ে ফারজানা খাতুন এঁশী (২০), ভাই দেলোয়ার হোসেন এবং তাঁদের সহযোগীরা তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। আনোয়ার হোসেন সাবেক সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের ঘনিষ্ঠজন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তিনি।
তামিম আবু উমামা জানান, প্রায় আড়াই বছর আগে পারিবারিকভাবে আনোয়ার হোসেনের মেয়ে এঁশীর সঙ্গে তাঁর বিয়ের আলোচনা ও সম্বন্ধ চূড়ান্ত হয়েছিল। তবে মেয়ের বাবার পক্ষ থেকে ৭৫ লাখ টাকা কাবিন দাবি করা হলে তাঁরা বিয়ের প্রস্তাবটি বাতিল করেন। এ ছাড়া মেয়েটিকে নিয়ে কিছু আপত্তিকর তথ্য তাঁদের হাতে এসেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তামিমের ভাষ্য, বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙে দেওয়ার পর থেকেই তাঁদের পরিবারের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এরপর গত আড়াই বছরে তাঁর বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর মধ্যে চারটি মামলা আদালতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন তামিম। বাকি মামলাগুলোতেও তিনি আইনি প্রতিকার পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তামিম অভিযোগ করেন, গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় আনোয়ার হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং বাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে তাঁদের বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ছাড়া গত ৮ অক্টোবর দুপুর ১টা ৫ মিনিটে অফিসে যাওয়ার পথে নীলগঞ্জ ভিসা অফিসের সামনে তাঁর গাড়ির গতিরোধ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তামিম। তাঁর দাবি, আনোয়ার হোসেনের নির্দেশে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ওপর চড়াও হয়ে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ঘটনার ভিডিও তাঁর মুঠোফোন ও গাড়ির ড্যাশ ক্যামেরায় সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তামিম আবু উমামা যশোর সদর থানায় দায়ের করা ৮৮ নম্বর মামলার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৯ জুন দায়ের করা ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে এঁশীর শালীনতাহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।
তামিম আরও দাবি করেন, এর আগে ২০২৫ সালের ১৪ মার্চ তিনি কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন, যার নম্বর ১০৫৮। তাঁর অভিযোগ, বিরোধের জেরে তাঁদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করা হয়েছে এবং মামলা তুলে নিতে একজন প্রভাবশালী আত্মীয় পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ১/২৫ ও পি ১৭৩/২৫ নম্বরের মানহানিসংক্রান্ত মামলার বিষয়ও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন তিনি।
তামিম আবু উমামা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো যোগাযোগ বা সম্পর্ক ছিল না। এরপরও সাম্প্রতিক সময়ে বাড়িতে হামলা ও বিভিন্ন ধরনের হুমকির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যেকোনো সময় তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের ওপর আরও বড় ধরনের হামলা হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে তিনি স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তামিম আবু উমামা তাঁর বাড়িতে হামলা, গাড়ির গতিরোধ ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর সুষ্ঠু বিচার এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন, তাঁর মেয়ে ফারজানা খাতুন এঁশী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply