
শেরপুরে নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মহিবুল ইসলাম (১৫) নামে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে জেলা শহরের শেরপুর কৃষি ইনস্টিটিউটের একটি ছাত্র মেস থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এদিকে, নিখোঁজের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর একটি প্রতারক চক্র অপহরণের নাটক সাজিয়ে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। এ ঘটনায় ছেলের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পরিবারটি ওই চক্রের দেওয়া নম্বরে ২৪ হাজার টাকা পাঠায় বলে জানা গেছে।
রোববার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার।
উদ্ধার হওয়া মহিবুল ইসলাম জেলা শহরের নবারুণ পাবলিক স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা শাহীনুর ইসলাম একজন কলেজশিক্ষক।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) স্কুলে না গিয়ে বাড়িতেই ছিল মহিবুল। বিকেল ৪টার দিকে তার মা ইফফাত আরা মুন তাকে বাড়িতে রেখে বাইরে যান। পরে বাড়িতে ফিরে ছেলেকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত গভীর হলেও তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পাশাপাশি স্বজনরা মহিবুলের ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিখোঁজের পোস্ট দেন।
ফেসবুক পোস্ট দেখে মুক্তিপণ দাবি
পরিবারের অভিযোগ, ফেসবুকে নিখোঁজের পোস্টটি দেখে একটি প্রতারক চক্র সুযোগ নেয়। তারা মহিবুলকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করে পরিবারের সদস্যদের ফোন দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। ছেলের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তার বাবা শাহীনুর ইসলাম প্রাথমিকভাবে ওই চক্রের দেওয়া নম্বরে ২৪ হাজার টাকা পাঠান।
বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে নিখোঁজ স্কুলছাত্রকে উদ্ধারে মাঠে নামে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করার পর রোববার দুপুরে শেরপুর কৃষি ইনস্টিটিউটের একটি ছাত্র মেস থেকে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
পরীক্ষার ফল নিয়ে আতঙ্কে আত্মগোপন
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার জানান, মহিবুল সম্প্রতি নবম শ্রেণির দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তবে পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় এবং বিষয়টি পরিবার জেনে যাওয়ার আশঙ্কায় সে মানসিকভাবে আতঙ্কিত ছিল। সেই ভয় থেকেই সে নিজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ওই ছাত্র মেসে আত্মগোপন করে।
তিনি আরও জানান, মুক্তিপণ দাবি করা প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে মহিবুলের পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে জেলা পুলিশ জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
নিখোঁজ স্কুলছাত্রকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করায় পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজের তথ্য প্রকাশের সুযোগ নিয়ে প্রতারণার এ ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অপরিচিত ব্যক্তির ফোনে টাকা পাঠানোর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply