
নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল
গাজীপুরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে গুরুতর আহত গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের তরুণ তৌফিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়।
নিহত তৌফিক গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের তবি খাঁর ছেলে। তৌফিক ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৩ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। অল্প বয়সেই তাঁর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের বাংলা বাজার এলাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন তৌফিক। শ্রমিকদের দাবি আদায়ের আন্দোলন চলাকালে একপর্যায়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তৌফিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং হামলার দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, হামলার ঘটনার ছবি ধারণ করার সময় হামলাকারীরা তৌফিকের ওপর অতর্কিতভাবে চড়াও হয়। একপর্যায়ে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে ঘটনাস্থলে থাকা আন্দোলনরত শ্রমিকরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
তৌফিকের মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্য, ছয়ঘরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নিশ্চিত করেছেন। তবে তাঁর ওপর হামলার প্রকৃত কারণ, হামলাকারীদের পরিচয় এবং ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা আরও স্পষ্ট হবে।
এদিকে তৌফিকের মৃত্যুর খবর ছয়ঘরিয়া গ্রামে পৌঁছালে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও সহপাঠীদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে। যে বয়সে তাঁর পড়াশোনা, স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ গড়ার কথা ছিল, সেই বয়সেই এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না স্বজন ও পরিচিতজনেরা।
স্থানীয়দের কাছে তৌফিকের মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বরং শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ভয়াবহ পরিণতিরও একটি মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
তৌফিকের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্র ও শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনে যেন আর কোনো তরুণকে প্রাণ হারাতে না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply