
বিশেষ প্রতিনিধি ইমতিয়াজ আহমেদ সুমন
তৃণমূলের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক পরিচিতিতে বাড়ছে আগ্রহ, প্রার্থিতার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে চলছে হিসাব-নিকাশ, আর তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে আগ্রহ। এরই মধ্যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত খালেদুর রশীদ ঝলক।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে পরিচিত খালেদুর রশীদ ঝলক দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক যোগাযোগের বিষয়গুলো সামনে রেখে তৃণমূলের একাংশ তাঁকে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দেখতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।
খালেদুর রশীদ ঝলক আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সন্তান। তিনি সিলেট মহানগরে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ ছাড়া সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক, সিলেটস্থ ইলিয়াস মুক্তি সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক, আজমিরীগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর সমর্থকদের দাবি, বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময় তিনি বিভিন্ন মামলা, পুলিশি হয়রানি ও নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে নানা বাধার সম্মুখীন হলেও তিনি রাজনৈতিক অবস্থানে অনড় ছিলেন। আজমিরীগঞ্জে দলীয় মিছিল, সভা-সমাবেশ ও আন্দোলন-সংগ্রামেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেন অনুসারীরা।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করেন, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, জনসেবামূলক কার্যক্রম জোরদার এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাঁদের মতে, খালেদুর রশীদ ঝলকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এনেছে।
সমর্থকদের ভাষ্য, ব্যক্তিগত আচরণে ভদ্রতা, অমায়িকতা ও মৃদুভাষী স্বভাবের কারণে তিনি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততা স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অনেকে মনে করেন, একজন উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনে জনবান্ধব মনোভাব, প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা খালেদুর রশীদ ঝলক এসব ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, তা নির্বাচনী প্রচার, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মূল্যায়িত হবে।
এদিকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে খালেদুর রশীদ ঝলকের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। বিএনপির পক্ষ থেকেও তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁকে ঘিরে চলমান আলোচনা আপাতত সম্ভাব্য প্রার্থিতাকেন্দ্রিক।
তবে তৃণমূলের একাংশের প্রত্যাশা, তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে আজমিরীগঞ্জের স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহণ, দলীয় সমর্থন এবং ভোটারদের প্রকৃত মনোভাবই শেষ পর্যন্ত তাঁর সম্ভাবনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে, আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে খালেদুর রশীদ ঝলককে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না এবং বিএনপি তাঁকে সমর্থন দেবে কি না—এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁর সমর্থক ও স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply