
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র সফিপুর বাজার ফ্লাইওভারের নিচে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ওপর ময়লার ভাগাড় গড়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কালিয়াকৈর পৌরসভার ফেলা বর্জ্য জমে সেখানে তৈরি হয়েছে বিশাল ময়লার স্তূপ। এতে চরম দুর্ভোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন হাজারো পথচারী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফ্লাইওভারের নিচে এমন পরিস্থিতি দেখে স্থানীয়দের প্রশ্ন—পৌরসভার বিশাল বাজেটের টাকা কোথায় যায়?
রোববার (১১ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, সফিপুর ফ্লাইওভারের নিচে তানহা হসপিটালের বিপরীত পাশে মহাসড়কের ওপর আবর্জনার বিশাল স্তূপ জমে আছে। সেখানে পচা শাকসবজি, ফলমূলের উচ্ছিষ্ট, পলিথিনসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়। হাসপাতালের বর্জ্যও সেখানে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পচা বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়েছে। সেখানে এক থেকে দুই মিনিট দাঁড়িয়ে থাকাও কষ্টকর বলে জানান স্থানীয়রা। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের পাশে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ রোগী ও তাঁদের স্বজনদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করছে।
ময়লার স্তূপের পাশেই ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঝালমুড়ি, চটপটি, দই-মিষ্টিসহ বিভিন্ন ধরনের খোলা খাবার বিক্রি করতে দেখা যায়। দুর্গন্ধ ও বর্জ্যের মধ্যেই এসব খাবার কিনছেন অনেকে। এতে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও অটোরিকশা ময়লার স্তূপ ঘেঁষে চলাচল করায় ওই এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনার কারণে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি যানজটের সমস্যাও বাড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “ফ্লাইওভারের নিচে পৌরসভা ময়লা ফেলার জায়গা বানিয়েছে। দুর্গন্ধে দোকানে ক্রেতা আসে না। প্রশাসনকে বহুবার বলেও কোনো কাজ হয়নি।”
শাহনাজ পারভীন নামে এক স্কুলশিক্ষিকা বলেন, “বাচ্চাদের নিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় নাক চেপে যেতে হয়। হাসপাতালের সামনে এমন নোংরা পরিবেশ থাকলে রোগী সুস্থ হবে কীভাবে?”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর সমাধান না হওয়ায় তাঁদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
বিষয়টি নিয়ে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এবং ফ্লাইওভারের নিচে এভাবে ময়লা ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। আমি ইতিমধ্যেই পৌর মেয়র ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দ্রুত এই ময়লা অপসারণ করে নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছি। প্রয়োজনে নতুন বরাদ্দ দেওয়া হবে।”
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, “মহাসড়ক কোনো ময়লা ফেলার স্থান হতে পারে না। আমি আজই পৌর কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ময়লা অপসারণের জন্য নোটিশ দিচ্ছি। দ্রুতই এটি পরিষ্কার করা হবে এবং ভবিষ্যতে যেন মহাসড়কে ময়লা ফেলা না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি থাকবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, সফিপুর ফ্লাইওভারের নিচে ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ওপর থেকে অবিলম্বে ময়লার ভাগাড় সরিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট ও পরিবেশসম্মত স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
তাঁদের মতে, শুধু একবার ময়লা অপসারণ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলা এবং পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশ্বাস কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply