1. dailychatoniaymuktijuddha@gmail.com : admin :
October 7, 2026, 11:35 pm
Title :
শিবপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান,দুই মিষ্টির দোকানে ২০ হাজার টাকা জরিমানা সোহেল সোহেল আনোয়ারায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির মতবিনিময় সভা শ্রীবরদীর জানকিখিলায় ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন নলডাঙ্গায় সার সরবরাহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিলারদের সঙ্গে মতবিনিময় নোয়াখালীতে যুবদল কর্মী রনি হত্যা: গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, ন্যায়বিচারের আশায় পরিবার কাজিপুরে কৃষকের সবজি বাগান কাটার ও বসতঘরের দরজা-জানালায় ভাঙচুরের অভিযোগ কালীগঞ্জে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা নাগরপুর তেবাড়িয়ায় ক্যান্সারে আক্রান্ত সাগরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন সলিমাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী শামসুল হুদা সাজু

ডিলারশিপ চূড়ান্তের আগেই সারের সাইনবোর্ড,কুড়িগ্রামে জনমনে প্রশ্ন

মোঃ বুলবুল ইসলাম
  • Update Time : Wednesday, October 7, 2026
  • 2 Time View

মোঃ বুলবুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের কালীরহাট বাজারে সারের ডিলারশিপ চূড়ান্ত হওয়ার আগেই একটি দোকানে ডিলার প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড টাঙানোকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, যে দোকানে সারের ডিলারের সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে, একই ঘর থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির পণ্যও বিতরণ করা হয়। এ নিয়ে স্বার্থের সংঘাত বা প্রশাসনিক কোনো জটিলতা তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক আপত্তি বা সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

কালীরহাট বাজারের ওই দোকানে টাঙানো সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে— ‘মেসার্স সিনথিয়া ট্রেডার্স, প্রোঃ মোঃ শহিদুল ইসলাম, রাসায়নিক সার বিক্রেতা, কালীরহাট বাজার, বেলগাছা, কুড়িগ্রাম সদর।’

স্থানীয়দের দাবি, ওই ঘর থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির পণ্য বিতরণ করেন হালিমা খাতুন। তিনি বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান সদর থানা বিএনপির আহ্বায়ক মাহাবুবার রহমানের স্ত্রী বলে স্থানীয়রা জানান। তাঁদের দাবি, সারের ডিলার হিসেবে সাইনবোর্ড টাঙানো মোঃ শহিদুল ইসলাম মাহাবুবার রহমানের আপন ছোট ভাই।

এদিকে বেলগাছা ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী অভিযোগ করেছেন, শহিদুল ইসলাম ৫ আগস্টের আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না এবং সে সময় তিনি বিদেশে ছিলেন। পরে সদর থানা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে তাঁকে বেলগাছা ইউনিয়ন আহ্বায়ক কমিটির ৮ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একাংশ দাবি করেছেন।

তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা অনেক নেতা-কর্মীকে বাদ দিয়ে আত্মীয়তার সূত্রে শহিদুল ইসলামকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেলগাছা ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা বলেন, “সব জায়গায় যদি নেতাদের ভাই-ব্রাদার ও আত্মীয়স্বজনই সুযোগ পান, তাহলে তৃণমূলের কর্মীরা কোথায় দাঁড়াবে?”

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মাহাবুবার রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে একাধিকবার তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ডিলারশিপ চূড়ান্ত নয়, তবু সাইনবোর্ড কেন?

এ বিষয়ে শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি আবেদনকারীদের মধ্যে ‘এক নম্বর সিরিয়ালে’ আছেন এবং ইনশাআল্লাহ ডিলারশিপ পাবেন। তদন্ত কর্মকর্তারা তদন্তের সময় সাইনবোর্ড দেখবেন—এমন কথা বলায় তিনি সাইনবোর্ড টাঙিয়েছেন বলেও জানান।

দোকানটি ছোট এবং সেখানেই কেন সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্তের সময় কর্মকর্তাদের একটি ঘর দেখানোর প্রয়োজন ছিল। ডিলারশিপ হলে পরবর্তীতে অন্য জায়গায় কার্যক্রম স্থানান্তর করা যাবে।

আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের সঙ্গে যুক্ত যুব উন্নয়ন বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, যতগুলো আবেদন পাওয়া গেছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। কাউকে বাদ দেওয়া বা ডিলারশিপের জন্য চূড়ান্ত করার এখতিয়ার তাঁদের নেই। তাঁদের দায়িত্ব হলো তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া।

কৃষি বিভাগের বক্তব্য

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ রওশন কবির বলেন, সার ডিলারের লাইসেন্সের আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কারা লাইসেন্স পাবেন, সে সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের।

তিনি বলেন, “এখনো কাউকে লাইসেন্স প্রদান বা কাউকেই লাইসেন্স পাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়নি। কেউ যদি অগ্রিম সাইনবোর্ড টানান, এটা তাঁর সিদ্ধান্ত। তারপরও বিষয়টি যেহেতু আমার নজরে এসেছে, আমরা খতিয়ে দেখব।”

স্থানীয়দের একাংশের আশঙ্কা, দলীয় পরিচয় বা পারিবারিক প্রভাবের ভিত্তিতে সরকারি সার বিক্রির ডিলারশিপ বণ্টন করা হলে প্রকৃত যোগ্য আবেদনকারীরা বঞ্চিত হতে পারেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে যোগ্যতা, সততা, ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে ডিলার নির্বাচন করা হোক।

তাঁদের আরও আশঙ্কা, সার বিতরণে অনিয়ম হলে কৃষকদের মধ্যে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। তাই ডিলারশিপ চূড়ান্তের আগে সাইনবোর্ড টাঙানোর বিষয়টি, দোকানের ব্যবহার এবং সব আবেদনকারীর যোগ্যতা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বচ্ছভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সব আবেদনকারীর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা পূরণকারী যোগ্য ব্যক্তিকেই সার ডিলারশিপ দেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ঢাকা থেকে প্রকাশিত  বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা    

© All rights reserved © 2018 News Smart

Themes By ShimantoIT.com