
নিজস্ব প্রতিবেদক জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল: ঘটনাটি বরিশসলে সারারাত খুঁটির সঙ্গে বাঁধা বাবা, সকালে পাউরুটি-চা নিয়ে ছুটে এলো ৮ বছরের শিশু
বরিশালে চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে মারধরের পর খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ঘটনাটির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বর্ণনা অনুযায়ী, রাতভর ওই ব্যক্তিকে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় রাখা হয় এবং সকালে খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসে তার ৮-৯ বছরের ছোট্ট মেয়ে।
শিশুটি সেখানে গিয়ে দেখে—তার বাবা হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছেন। শরীরে আঘাতের চিহ্ন, মুখে ক্লান্তির ছাপ। চারপাশে মানুষের ভিড়।
সে হয়তো জানে না চুরি কী, অপরাধ কী কিংবা আইন কী বলে। সে শুধু জানে—ওই মানুষটিই তার বাবা।
বাবার এমন অবস্থা দেখে শিশুটি ছুটে গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। এরপর নিজের ছোট্ট হাত দিয়ে বাবার শরীরের ধুলো-ময়লা ও আঘাতের জায়গাগুলো যতটা সম্ভব মুছে দিতে থাকে।
কিছুক্ষণ পর শিশুটির মনে হয়, সারারাত বাবার নিশ্চয়ই কিছু খাওয়া হয়নি। সে দৌড়ে পাশের দোকান থেকে একটি পাউরুটি ও এক কাপ চা কিনে আনে।
তারপর সবার সামনে মাটিতে বসে চায়ের মধ্যে রুটি ভিজিয়ে বাবার মুখে তুলে দিতে থাকে।
সেই দৃশ্য যেন মুহূর্তেই বদলে দেয় চারপাশের পরিবেশ।
যে বাবা কিছুক্ষণ আগেও মানুষের ক্ষোভের কেন্দ্রে ছিলেন, তাঁর চোখ দিয়ে তখন ঝরছিল অশ্রু। আর ছোট্ট মেয়েটির সেই নিঃশর্ত ভালোবাসা দেখে উপস্থিত অনেকের মধ্যেও আবেগ তৈরি হয়।
ঘটনার বর্ণনা অনুযায়ী, উপস্থিত কয়েকজন তখন ওই ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে বলতে থাকেন—
“খা ভাই, খা। ছোট মেয়েটা দিচ্ছে—খা। তোকে আর কেউ মারবে না।”
আইন ভঙ্গের অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত হবে, সত্যতা যাচাই হবে এবং আদালতের মাধ্যমে বিচার হবে—এটাই আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু কোনো অভিযোগের ভিত্তিতেই জনতার হাতে কাউকে মারধর বা নির্যাতন করা গ্রহণযোগ্য নয়।
এই ঘটনার সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী দিকটি হয়তো অন্য কোথাও—
দুনিয়ার চোখে একজন মানুষ অভিযুক্ত হতে পারেন, কিন্তু সন্তানের চোখে তিনি শুধু তার বাবা।
সন্তান বাবার অপরাধের হিসাব করে না। সে দেখে তার বাবার কষ্ট। তাই চারপাশের মানুষের চোখে যে মানুষটি একজন অভিযুক্ত, সেই মানুষটির মুখে নিজের হাতে রুটি তুলে দিতে শিশুটি এক মুহূর্তও দ্বিধা করেনি।
এক টুকরো পাউরুটি, এক কাপ চা আর একটি শিশুর অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা যেন সেদিন সবাইকে মনে করিয়ে দিল—
“অপরাধের বিচার আইন করবে, কিন্তু সন্তানের ভালোবাসার বিচার করার ক্ষমতা কারও নেই।”
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply