
নয়ন হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে অবৈধভাবে একটি চানাচুর কারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়া বন্ধ করার জন্য প্রতিবাদ করায় স্থানীয় একটি পরিবারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকার লোকজনের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের ভেলাজান নদীপাড়া এলাকায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের ভেলাজান নদীপাড়া এলাকায় হঠাৎ করে অবৈধভাবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে একটি চানাচুর কারখানা গড়ে তোলে শামসেদ তাবেরী। ওই কারখানা থেকে প্রতিদিন নির্গত হয় কালো ধোঁয়া। কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে পুরো গ্রামজুড়ে।
এ নিয়ে গেল ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রতিবাদ জানায়- ভেলাজান নদীপাড়া এলাকার বাসিন্দা হবিবর রহমান ও তার দুই ছেলে আব্দুল হাকিম ও আনারুল ইসলাম।
এ ঘটনায় গেল ২০ সেপ্টেম্বর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ‘দুই বোন চানাচুর’ কারখানার মালিক শামসেদ তাবেরী বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রতিবেশি হবিবর রহমান ও তার দুই ছেলে আব্দুল হাকিম ও আনারুল ইসলামকে আসামী করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়- আসামী তিনজন মিলে মামলার বাদীর কাছে পাঁচলক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নাসিমা বেগম বলেন, অবৈধভাবে এলাকায় ‘দুই বোন চানাচুর’ কারখানা গড়ে তোলে শামসেদ তাবেরী। ওই কারখানা থেকে কালো ধোঁয়া নির্গত হয়ে পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যার সম্মুখিন হন স্থানীয়রা। আর এখন শুনছি চানাচুর কারখানার মালিক বাদী হয়ে আদালতে একই পরিবারের তিনজনের নামে মিথ্যা একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন।
আরেক বাসিন্দা নিজামউদ্দীন বলেন, চানাচুর কারখানার মালিককে গ্রামের সবাই ধোঁয়া বন্ধ করার জন্য প্রতিবাদ জানায়। কিন্তু তারা কথা শোনো না। তাদের ইচ্ছেমত তারা কারখানা পরিচালনা করে আসছে। এখন মিথ্যা মামলা দিয়ে একটি পরিবারকে হয়রানী করছে।
মামলার আসামী হবিবর রহমান ও তার ছেলে আনারুল ইসলাম বলেন, আমাদের বাড়ির সাথেই অবৈধভাবে চানাচুর কারখানা গড়ে তোলে শামসেদ তাবেরী।
কারখানার সমস্ত ধোঁয়া আমাদের বাড়িসহ চারপাশে ছড়িয়ে পরে। ধোঁয়া বন্ধ করার জন্য গেল ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে শামসেদ তাবেরীকে বলা হয়। এসময় শামসেদ তাবেরীসহ তার পরিবারের লোকজন আমাদের অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করে। পরে আমরা নিজ বাড়িতে চলে আসি।
তারা বলেন, শামসেদ তাবেরী তার অবৈধভাবে গড়ে তোলা চানাচুর কারখানার ধোঁয়া বন্ধ করা করে এখন উল্টো আমাদের নামে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রশাসনকে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করছি।
দুই বোন চানাচুর কারখানার মালিক শামসেদ তাবেরীর কাছে কারখানার বৈধতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চানাচুর কারখানার শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে, ট্রেড লাইসেন্সটিও সালন্দর ইউনিয়নের। তা দিয়েই কারখানা পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়াও বিএসটিআই, পরিবেশ বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোন কাগজপত্র নেই।
মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হবিবর রহমান ও তার পরিবারের লোকজন আমাদের বাড়িতে এসে আমাদের মারপিট করেছে, এজন্য মামলা করেছি।
চিলারং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সোভা আলী বলেন, আমার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ‘দুই বোন চানাচুর’ কারখানা নামে কোন ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। আর একটি চানাচুর কারখানা তৈরি করতে গেলে অবশ্যই বিএসটিআইসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অনুমতি থাকতে হবে, এছাড়া কেউ চানাচুর কারখানা তৈরি করতে পারবে না। বিষয়টি অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করা হবে, তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মাহমুদুল কবির বলেন, সরকারের অনুমতি ছাড়া কেউ চানাচুর কারখানা পরিচালনা করতে পারবে না। আর কেউ যদি অবৈধভাবে চানাচুর কারখানা গড়ে তুলে তাহলে অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply