
জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সাত বছর বয়সী শিশু মাহিদাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ১৭ বছর বয়সী চাচা জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পানি খেতে চাইলে মাহিদাকে পানি খাওয়ানোর কথা বলে জাহিদুল নিজের ঘরে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন করা হয়। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
মাহিদাকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে জাহিদুলের ঘরের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। পরে ঘরে ঢুকে অচেতন অবস্থায় মাহিদাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জাহিদুলের বাড়িতে হামলা চালায় এবং তাকে মারধর করে বলে জানা গেছে। পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় পুলিশ ও উত্তেজিত এলাকাবাসীর মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।
পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার সময় জাহিদুল ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হলেও, এ দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত সত্য তদন্ত ও আদালতের বিচারেই নির্ধারিত হবে।
জানা গেছে, মাহিদার বাবা সৌদি আরবে প্রবাসী। ছোট্ট মাহিদা স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত।
শিশু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
নিজের আপনজনের কাছেও যদি একটি শিশু নিরাপদ না থাকে, তাহলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে—এমন প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। একই সঙ্গে শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের আরও সতর্ক ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
তবে আবেগের পাশাপাশি আইনের প্রতি আস্থা রেখে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধী শনাক্তকরণ এবং আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply