
মিসেস চামেলী আক্তার প্রিয়া,নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আহম্মদ নগর চৌরাস্তা এলাকায় অনলাইন জুয়ার ঋণ, পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শম্পা আক্তার নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও পরিকল্পিত হত্যার ফল। তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ১০ বছর আগে মো. মিরাজুল ইসলাম রাসেলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শম্পা আক্তার। তাদের সংসারে পাঁচ বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। শুরুতে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও, পরবর্তীতে স্বামীর অনলাইন জুয়ার নেশা সংসারে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অনলাইন জুয়ায় বিপুল অর্থ হারিয়ে ঋণের বোঝায় জড়িয়ে পড়েন রাসেল। সেই ঋণ পরিশোধের জন্য স্ত্রী শম্পাকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে নিয়মিত চাপ দেওয়া হতো। টাকা আনতে না পারলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এমনকি আত্মহত্যার জন্যও তাকে প্ররোচনা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা।
নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার আগের রাতেও অনলাইন জুয়ার টাকার বিষয় নিয়ে শম্পাকে মারধর করা হয়। পরদিন ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিটে রাসেল ফোন করে শম্পার বাবা মো. অহিদুজ্জামানকে জানান, শম্পা ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শম্পার মরদেহ মেঝেতে শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পান। তাদের দাবি, মরদেহের গলা, থুতনির নিচে ও কানের পাশে কালচে আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা মৃত্যুর ঘটনাকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।
পরে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
মেয়েকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়া বাবা মো. অহিদুজ্জামান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমার মেয়েটা বাঁচতে চেয়েছিল, কিন্তু ওরা তাকে বাঁচতে দেয়নি। দিনের পর দিন নির্যাতন করেছে, টাকার জন্য চাপ দিয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই। এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, যেন আর কোনো বাবার বুক এভাবে খালি না হয়।”
এদিকে, মাত্র পাঁচ বছর বয়সী শিশুপুত্রটি মায়ের মৃত্যুর পর থেকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। তার ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
কালিয়াকৈর থানা পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের বাবার পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গৃহবধূ শম্পা আক্তারের মৃত্যু আবারও সামনে নিয়ে এসেছে অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব এবং পারিবারিক নির্যাতনের নির্মম বাস্তবতা। তবে এ ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনও তদন্তাধীন। এখন সকলের প্রত্যাশা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং যদি কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply