
জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারি কাজ ও বিল পরিশোধ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচিত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ ও বিল ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও চলমান রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজশাহীর বহরমপুর এলাকার ‘বাচ্চু’ নামে পরিচিত ব্যক্তি ও তাঁর অংশীদার ‘ধোপা রতন’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘বিসমিল্লাহ বর্ষণ’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের কোটি কোটি টাকার বিভিন্ন কাজ পরিচালিত হচ্ছে এবং এসব কাজের বিলও পরিশোধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, এসব কাজের অর্থ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি ৫ আগস্টের আগে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতায় অর্থ জোগানের অভিযোগও ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার আগে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, কার্যাদেশ, টেন্ডার প্রক্রিয়া, বিল পরিশোধের তথ্য এবং আইনগত অবস্থান যাচাই করা জরুরি।
প্রশ্ন উঠছে রাসিকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও
নগরবাসীর প্রশ্ন—যদি কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর রাজনৈতিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকে, তাহলে তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারি কাজ ও বিলের বিষয়ে যথাযথ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে কি না?
আর যদি অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি না থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কীভাবে নিয়মিতভাবে সরকারি কাজ পাচ্ছে এবং বিল গ্রহণ করছে—এ বিষয়টিও জনসমক্ষে পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা।
নথি প্রকাশের দাবি
অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্টরা দাবি জানিয়েছেন, ‘বিসমিল্লাহ বর্ষণ’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের—
– কোন কোন প্রকল্পে কাজ রয়েছে;
– প্রতিটি প্রকল্পের কার্যাদেশের মূল্য কত;
– কোন প্রক্রিয়ায় কাজ দেওয়া হয়েছে;
– এখন পর্যন্ত কত টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে;
– বর্তমানে কত টাকা বিল বকেয়া রয়েছে;
– প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও অংশীদারদের প্রকৃত পরিচয় কী;
– এবং কাজগুলো নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হচ্ছে কি না—
এসব তথ্য যাচাই করে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হোক।
তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত তথ্য
অভিযোগ সত্য হলে সরকারি অর্থের অপব্যবহার বা অনিয়মের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। আবার অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নেরও যথাযথ ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
তাই কোনো রাজনৈতিক পরিচয়কে ভিত্তি করে নয়, নথিপত্র, আইন, টেন্ডার প্রক্রিয়া ও আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বের করে আনার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
এই বিষয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং ‘বিসমিল্লাহ বর্ষণ’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply