
মোঃ সোহেল: বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল মানেই সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া। আর যখন এই উত্তেজনা এমন এক জনপদে পৌঁছায়, যেখানে বারুদ আর ধ্বংসস্তূপই নিত্যদিনের সঙ্গী, তখন তা এক ভিন্ন মাত্রা পায়। এবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের পক্ষে গাজার মানুষের এই অকুণ্ঠ সমর্থন কেবল ফুটবলপ্রীতি নয়, বরং মানুষের টিকে থাকার লড়াইয়ের এক অনন্য আবেগীয় বহিঃপ্রকাশ।
ফুটবল যখন যুদ্ধের ক্লান্তি ভোলায়
গাজার প্রতিটি রাস্তায়, প্রতিটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের পাশে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে একটাই বিষয়—আগামীকালের ফাইনাল ম্যাচ। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই জনপদের মানুষগুলো যখন স্পেনের পতাকায় নিজেদের স্বপ্নের প্রতিফলন খুঁজে পায়, তখন ফুটবল কেবল একটি খেলা থাকে না; হয়ে ওঠে দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণার মাঝে এক টুকরো স্বস্তির শ্বাস।
কেন স্পেনের প্রতি এই টান?
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, গাজার সাধারণ মানুষ সবসময়ই এমন সব দলের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে যারা শোষিত বা যাদের লড়াইয়ের একটি ইতিহাস আছে। এছাড়া স্পেনের আক্রমণাত্মক এবং নান্দনিক ফুটবল শৈলী গাজাবাসীর মনে নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে। গাজার রাস্তায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে স্পেনের খেলোয়াড়দের নাম শোনা এখন যেন তাদের দৈনন্দিন বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণারই অংশ।
ফাইনালের উত্তেজনা
ফাইনালের ঘণ্টা যত ঘনিয়ে আসছে, গাজার আকাশে-বাতাসে যেন স্পেনের জয়ধ্বনি আরও জোরালো হচ্ছে। একটি বড় পর্দায় খেলা দেখার জন্য গাজার যুবসমাজ মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাদের চোখেমুখে একটাই প্রশ্ন—ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর কী স্পেনের জয় হবে? সেই জয়ের আনন্দ কি তাদের দীর্ঘদিনের গ্লানি কিছুটা হলেও লাঘব করতে পারবে?
উপসংহার
ফুটবল কোনো সীমান্ত মানে না, মানে না কোনো দেয়াল। স্পেনের জন্য গাজার এই উল্লাস প্রমাণ করে যে, পৃথিবী যতই বিভক্ত হোক না কেন, আনন্দের মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেওয়ার ক্ষমতা মানুষের সহজাত। গাজার এই সমর্থন স্পেনের জন্য একটি নৈতিক জয়ের চেয়েও বেশি কিছু, যা খেলাটিকে আরও মানবিক করে তুলেছে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply