
স্টাফ রিপোর্টার: শাফায়েত হোসেন
চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের সুবলপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জমি বিক্রি, শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয়ের মোট ৫১ শতক জমির মধ্যে প্রায় ২৫ শতক বিক্রি করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রি অফিসে এ-সংক্রান্ত নথিপত্র রয়েছে এবং সেগুলোর কপি তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয়ের সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে।
এদিকে, প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগের নামে অর্থ গ্রহণের অভিযোগও তুলেছেন কয়েকজন ব্যক্তি। অভিযোগকারী মতিয়ার হোসেন রানা বলেন, চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ১ লাখ ৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়। অপর এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে ইংরেজি শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত বলে দাবি করেন, অভিযোগ করেন যে তাঁর কাছ থেকেও ১ লাখ ১ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁরা এসব বিষয়ে ক্যামেরার সামনেও বক্তব্য দিয়েছেন।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এভাবে প্রায় ২০ জনের কাছ থেকে মোট প্রায় ৪০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক অনিয়ম, নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগ, উপবৃত্তির অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং পরিচালনায় স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযোগকারীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বা করার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসানের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। তবে অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী, তিনি ক্যামেরার সামনে কয়েকটি বিষয়ে নিজের ভুলের কথা স্বীকার করেছেন। এই দাবির স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদ্যালয়টিতে অসচ্ছল ও এতিমসহ অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে ওঠা অভিযোগে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
Leave a Reply