মালিকুজ্জামান কাকা
যশোর শহরের রেলগেট ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় মাদক কারবারের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, রায়পাড়া, সাড়অফিস, আলতাফের মোড়, ইসমাইল কলোনি, আলীগড় মসজিদ রোড, চোরমারা দীঘির পাড়, ডালমিল এলাকা ও কলাবাগান পাড়াসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে মাদক কেনাবেচা চলছে। এতে এলাকার শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলগেট পশ্চিমপাড়াকেন্দ্রিক মাদক কারবারের একটি বড় নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের দাবি, লাইলী নামে এক নারী এই নেটওয়ার্কের উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। ডিলার ও এজেন্টসহ শতাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততায় একটি সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, লাইলী নামের ওই নারী প্রায় দুই দশক ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে তাঁদের অভিযোগ। স্বামী আব্দুল খালেকের মৃত্যুর পর তিনি যশোরের চৌগাছা উপজেলার কুলিয়া গ্রামের নজিরকে বিয়ে করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নজিরের মাধ্যমে তিনি চোরাকারবারের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পরবর্তী সময়ে মাদক কারবারের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তি, স্থানীয় প্রভাবশালী ও প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের সহযোগিতা নিয়ে ওই নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রশাসনের বক্তব্যও এ বিষয়ে প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগে লাইলীর পরিবারের কয়েকজন সদস্য এবং পরিচিত ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তাঁর বোন কবু, ছেলে শুকুর, মেয়ে সুমী, সতীনের ছেলে তপন এবং রেলগেট এলাকার পান দোকানদার সালামের ছেলে দেলোর নাম রয়েছে।
এ ছাড়া রায়পাড়া ও আশপাশের এলাকার আরও কয়েকজন নারী-পুরুষের বিরুদ্ধে মাদক কেনাবেচা এবং সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, কেউ কেউ সরাসরি মাদক বিক্রি করেন, আবার কেউ এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন।
তবে কেবল স্থানীয় অভিযোগের ভিত্তিতে কারও অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায় না। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
অভিযোগে আলমগীর নামে এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সেপ্টেম্বর মাসে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ তাঁকে আটক করা হয় এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এ ঘটনার মামলা, আটকের তারিখ, উদ্ধার করা মাদকের পরিমাণ ও বর্তমান আইনি অবস্থান সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র এবং আদালতের নথি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
স্থানীয়দের অভিযোগে সাগর ও রমজান নামে দুই ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মাদক কারবারের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে তাঁদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এবং এ ঘটনায় লাইলীর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
এটি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা সম্পর্কে পুলিশের তদন্ত, মামলার নথি ও আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সংশ্লিষ্ট মামলার তথ্য যাচাই এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, চৌগাছা সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে মাদক ও অস্ত্র আনার অভিযোগও রয়েছে। একই সঙ্গে লাইলীর জীবনযাত্রা ও সম্পদের পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
তাঁদের দাবি, চলতি বছরে তিনি প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি গরু কোরবানি দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি প্রকাশ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত টাকা দেওয়ার কথা বলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে কথিত অর্থ লেনদেন, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান কিংবা অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। তাই এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের দু-একজন নেতা কথিত মাদক কারবারিদের মদদ দিচ্ছেন। তবে অভিযোগে উল্লিখিত নেতাদের পরিচয়, তাঁদের বক্তব্য কিংবা এ অভিযোগের পক্ষে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই।
যশোর শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারের অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও অভিযোগের প্রকৃত চিত্র নির্ধারণে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত। অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তি ও এলাকাগুলোতে আইনসম্মত অনুসন্ধান, মাদক সরবরাহের উৎস শনাক্তকরণ এবং অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রমাণসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
এ বিষয়ে যশোর জেলা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের বক্তব্য নেওয়া এবং অভিযোগের পক্ষে প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা জরুরি।
প্রতিবেদকের বক্তব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য স্থানীয়দের অভিযোগ ও সরবরাহ করা তথ্যের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে। অভিযোগগুলোর সবকটির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা সম্ভব।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply