1. dailychatoniaymuktijuddha@gmail.com : admin :
October 2, 2026, 4:39 pm
Title :
নাগরপুরে ঐতিহ্যবাহী হা-ডু-ডু ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জননেতা মোঃ আতিকুর রহমান আতিক নাগরপুর পাইশানায় জুমার নামাজ শেষে গণসংযোগ ও তবারক বিতরণ করলেন সদর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মোস্তফা গোলাম কাজীয়াটি জামে মসজিদে মুসল্লিদের সঙ্গে ওসি মোহনগঞ্জের সচেতনতামূলক মতবিনিময় রাড্ডা-কাণ্ডের পর এমপি পদত্যাগ: কে এই ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি? ধুনটে উদ্বোধনী ক্লাস ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে আজাদ শিল্পীগোষ্ঠীর পথচলা শুরু কালারুকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় গোলাম মাহমুদ আজম চান দোয়া ও সমার্থন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে মারধোরের মুখে তিনবোনের স্ট্রাম্পে টিপছাব স্বাক্ষর আদায়, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ঢোলের জাদুকর বিনয়বাঁশী জলদাসের ১১৫তম জন্মদিবস পালিত কালিয়াকৈরে মশার উপদ্রব চরমে, ডেঙ্গু আতঙ্কে পৌরবাসী আমবাগে লিজেন্ডারি ক্রিকেট লীগের মেগা ফাইনাল অনুষ্ঠিত

রাড্ডা-কাণ্ডের পর এমপি পদত্যাগ: কে এই ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি?

Reporter Name
  • Update Time : Friday, October 2, 2026
  • 0 Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল: মাত্র কয়েক মাস আগে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হয়েছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও দখলচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ১ অক্টোবর ২০২৬ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। স্পিকার জানান, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর আসনটি শূন্য হয়েছে।

তবে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির রাজনৈতিক পরিচয় একেবারে নতুন নয়। মিরপুরের স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত জীবনীভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ার সময় তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং কলেজ ছাত্র সংসদের এজিএস নির্বাচিত হন। পরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৬ সালে বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ থেকে সংসদ সদস্য হন।

রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরাধিকার

মিষ্টির রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে পারিবারিক উত্তরাধিকারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তিনি প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বোন। তাঁর স্বামী ছায়েদুর রহমান নিউটনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন। ২০০২ সালে স্বামী নিহত হওয়ার পর মিষ্টি ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ মিরপুরের রাজনীতিতে মিষ্টির অবস্থান গড়ে উঠেছে দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা, স্থানীয় রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচয়ের সমন্বয়ে।

বিতর্কের কেন্দ্রে ‘সমমনা’ সমিতি

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সামনে আসে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নাম। প্রথম আলোর অনুসন্ধানসহ একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৪ সালে রাড্ডা সেন্টারের জায়গাটি সমিতির নামে বরাদ্দ চেয়ে করা আবেদনে সভাপতি হিসেবে মিষ্টির নাম ও স্বাক্ষর ছিল।

এখানেই পুরোনো নথি এবং বর্তমান ঘটনার মধ্যে একটি প্রশ্নের যোগসূত্র তৈরি হয়েছে।

তবে এই নথিতে তাঁর নাম থাকা বা অতীতে সমিতির সভাপতি থাকা—এগুলোকে রাড্ডা সেন্টারে সাম্প্রতিক হামলায় তাঁর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে দেখানো যায় না। বরং বিষয়টি নিয়ে তাঁর নিজের বক্তব্যও রয়েছে।

মিষ্টির বক্তব্য কী?

গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, মিষ্টি অতীতে সমমনা সমিতির সভাপতি থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং জমি বরাদ্দের জন্য আবেদন করার কথাও জানিয়েছেন। তবে বর্তমানে ওই সমিতির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই এবং রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি দাবি করেছেন।

কী ঘটেছিল রাড্ডা সেন্টারে?

প্রকাশিত সংবাদপ্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে প্রবেশ করে। সেখানে লুটপাট ও ভাঙচুরের পর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি টিনশেড ও কয়েকটি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থলে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড দেখা যায়।

এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগও বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে কয়েকজনকে মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের চূড়ান্ত দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের।

এরপর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত

রাড্ডা-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে আরও বড় আকার নেয়। ১ অক্টোবর মিষ্টিকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই দিন তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগপত্রে মিষ্টি জানান, তিনি সম্পূর্ণ সচেতনভাবে ও স্বেচ্ছায় সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এরপর স্পিকার জানান, তাঁর পদত্যাগ কার্যকর হয়েছে এবং সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ শূন্য হয়েছে।

প্রশ্ন রয়ে গেল কয়েকটি

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে ঘিরে আলোচনার মূল বিষয়গুলো এখন কয়েকটি প্রশ্নে এসে দাঁড়িয়েছে—

প্রথমত, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও দখলচেষ্টার ঘটনায় তাঁর নাম কেন সামনে এলো?

দ্বিতীয়ত, হামলার পর আলোচনায় আসা সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতির সঙ্গে তাঁর অতীত সম্পর্ক কী ছিল?

তৃতীয়ত, রাড্ডা সেন্টারের জায়গা বরাদ্দ চেয়ে করা পুরোনো আবেদনে তাঁর সভাপতি হিসেবে স্বাক্ষরের বিষয়টির প্রাসঙ্গিকতা কী?

চতুর্থত, স্থানীয় বিএনপির যেসব নেতার নাম বিভিন্ন অনুসন্ধানে এসেছে, তাঁদের সঙ্গে মিষ্টির রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রকৃতি কী?

পঞ্চমত, পুরো ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল?

এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর নির্ভর করবে তদন্ত, নথিপত্র, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর।

পদত্যাগ কি সব প্রশ্নের উত্তর?

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির এমপি পদ থেকে পদত্যাগ একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু পদত্যাগের মাধ্যমে রাড্ডা সেন্টারে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর বা দখলচেষ্টার অভিযোগের সত্যতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয় না।

বরং ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে রাজনৈতিক প্রভাব, পুরোনো সংগঠন, জমির দাবি এবং জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা—এই চারটি বিষয়কে একই আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো—অভিযোগ থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে কি না, সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রমাণ যাচাই হবে কি না এবং যাঁদের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।

কারণ একজন জনপ্রতিনিধির রাজনৈতিক পরিচয় যত গুরুত্বপূর্ণই হোক, জনস্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ঘটনায় জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও আইনের শাসনের প্রশ্নই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ঢাকা থেকে প্রকাশিত  বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা    

© All rights reserved © 2018 News Smart

Themes By ShimantoIT.com