
আব্দুল হালিম, নিজস্ব প্রতিবেদক: রংপুরে মাদক মামলায় আসামি করা থেকে রেহাই দেওয়া এবং জব্দকৃত মাদকের পরিমাণ কম দেখানোর আশ্বাস দিয়ে ‘দুপুরের ভাত খাওয়ার’ কথা বলে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) রংপুর বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সিপাহি আল-আমিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঘুষ গ্রহণের দাবি করা একটি ভিডিও ও অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের ঘটনায় বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন রংপুর বিভাগের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি অভিযানিক দল মিঠাপুকুর উপজেলার বলদিপুকুর অভিরামনুরপুর গুচ্ছগ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় চোলাই মদ ব্যবসার অভিযোগে ভ্যানচালক আবজাল হোসেনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১০ লিটার চোলাই মদ এবং প্রায় ৬০০ লিটার মদ তৈরির উপকরণ (ওয়াশ) জব্দ করা হয়। পরে তাঁকে আটক করে মিঠাপুকুর (খ) সার্কেল কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কার্যালয়ে নেওয়ার পর অভিযানে অংশ নেওয়া সিপাহি আল-আমিন আবজাল হোসেনের ছেলেদেরও মামলায় জড়ানোর ভয় দেখান। পরে মামলা থেকে রেহাই দেওয়া এবং জব্দ তালিকায় মাদকের পরিমাণ কম দেখানোর শর্তে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরিবারের সদস্যরা বাধ্য হয়ে তাঁর দাবি মেনে নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও অডিওতে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে, সিপাহি আল-আমিন ‘দুপুরে ভাত খাওয়ার’ কথা উল্লেখ করে আগে ৫ হাজার টাকা পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করছেন। পরে তাঁর মনোনীত এক ব্যক্তি মিঠাপুকুর সার্কেল কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বাকি টাকা গ্রহণ করেন।
ভুক্তভোগী আসাদুল বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে মামলা ও পরিবারের সদস্যদের আসামি করার ভয় দেখানো হয়েছিল। পরে বিকাশ থেকে টাকা এনে সিপাহি আল-আমিনের নির্দেশিত ব্যক্তির হাতে তুলে দিই। পরে ফোন করলে তিনি টাকা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেন এবং কাউকে বিষয়টি না জানাতে বলেন।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিপাহি আল-আমিন বলেন, “আমার অনেক সাংবাদিক আছে। আপনারা নিউজ করেন। আমি এখানে চার বছর ধরে আছি।” তবে তিনি ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
রংপুর বিভাগীয় গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিচালক দিলারা রহমান বলেন, “ভাইরাল ভিডিও ও অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply