
আব্দুল্লাহ আল মামুন: যশোরের মণিরামপুরে সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। মাদক মামলার আসামির স্ত্রী ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির ছেলেকে ডিলার নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রকাশিত তালিকা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির দুই নেতা। তাঁরা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগকারীরা প্রকাশিত তালিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে পুনরায় যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে আলোচনা-সমালোচনা।দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম অভিযোগে উল্লেখ করেন, ইউনিয়নে বিসিআইসি সার ডিলার মেসার্স জান্নাতুল ফেরদাউস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রওশনারা খাতুন। তিনি চলতি বছর ফ্যামিলি কার্ড শুমারির ইউনিয়ন সুপারভাইজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর অভিযোগ, রওশনারা খাতুনের স্বামী আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি ডিবি পুলিশের অভিযানে তাঁকে ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ ৪৩ হাজার টাকাসহ আটকের দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মণিরামপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা এবং জামালপুরে প্রতারণা মামলায় দুই বছরের সাজা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।অন্যদিকে, শ্যামকুড় ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য ফজলুর রহমান অভিযোগ করেন, ওই ইউনিয়নে মেসার্স জামান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সালাহ উদ্দিনকে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, সালাহ উদ্দিনের বাবা আব্দুল কাশেম নাগোরঘোপ-হাসাডাঙ্গা ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।অভিযোগকারীদের দাবি, বিতর্কিত ব্যক্তিদের ডিলার নিয়োগের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে রোহিতা ও ঝাঁপা ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগ নিয়েও বিতর্কের কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।এদিকে, দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের নেতা কামারুল ইসলাম ও চিনাটোলা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে যাঁদের কারণে তাঁরা মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন, এখন তাঁদেরই সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। এতে দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে বলে তাঁরা দাবি করেন।তবে সার ডিলার নিয়োগ পাওয়া রওশনারা খাতুন ও সালাহ উদ্দিন তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, নিয়মনীতি অনুসরণ করেই তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি সম্রাট হোসেন বলেন, “অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক বলেন, তাঁর নিজের ইউনিয়ন রোহিতায় স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে একই পরিবারের তিনজনের নাম তালিকায় পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব দুর্নীতির বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিষয়টি তদন্ত করতে প্রশাসনকে বলা হয়েছে।সার ডিলার নিয়োগে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply