
এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম: * সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সায়েমকে পুনর্বহাল এবং নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. শরীফুলের সঙ্গে অসহযোগ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা
* পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বহাল রেখে নবনিযুক্ত উপাচার্যের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অসহযোগ অব্যাহত থাকবে, শিক্ষক সমিতি
* ইউজিসি গঠিত ছয় সদস্যের উচ্চপর্যায়ের পরামর্শক কমিটি আগামী ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে আসবে।
দীর্ঘ ৩৪ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে শ্রেণিকক্ষে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল এবং নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের সঙ্গে অসহযোগ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
২৫ অক্টোবর(রোববার) শিক্ষক সমিতির চতুর্থ সাধারণ সভা এবং শিক্ষার্থীদের দেওয়া এক খোলা চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের খোলা চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও অচলাবস্থায় তাঁদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পড়াশোনার ক্ষতি আর বাড়াতে চান না তাঁরা। তাই দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করে শ্রেণিকক্ষে ফিরতে চান। তবে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তকে আন্দোলন থেকে সরে আসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের এক দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় তাঁদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তাঁরা দ্রুত স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরে পেতে চান। সংঘাত নয়, সংকটের সম্মানজনক সমাধান চান তাঁরা।
একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাসে ফেরার অর্থ ন্যায্য দাবি থেকে সরে আসা নয়। সাবেক উপাচার্য সায়েমের পুনর্বহালের দাবিতে তাঁদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ২৫ অক্টোবর(রোববার) সকালে চুয়েট অডিটোরিয়ামে শিক্ষক সমিতির চতুর্থ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাছান।
সভা শেষে শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির জানান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন দীর্ঘায়িত না করা এবং দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার লক্ষ্যে সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শিক্ষক সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বহাল রেখে নবনিযুক্ত উপাচার্যের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অসহযোগ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে শিক্ষকরা একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন। তবে নবনিযুক্ত উপাচার্যের ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক যেকোনো কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচি কঠোরভাবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
একাডেমিক কার্যক্রম চালু করতে বিভাগীয় প্রধান, ইনস্টিটিউট পরিচালক, ছাত্রকল্যাণ দপ্তর ও হল প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রধান ফটক বন্ধ রাখা এবং আনসার বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্তও হয়েছে। পরে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সভায়ও একই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গঠিত ছয় সদস্যের উচ্চপর্যায়ের পরামর্শক কমিটি আগামী ২৮ অক্টোবর(বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে আসবে। ওই দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পৃথক সময়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করবে কমিটি।
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর নিয়োগের ৫৬ দিনের মাথায় চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন ও কর্মবিরতি শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
গত ১২ অক্টোবর নবনিযুক্ত উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ভবনের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে ঢুকলে শিক্ষার্থীরা তাঁকে অবরুদ্ধ করেন। পরদিন প্রশাসনের সহায়তায় তিনি ক্যাম্পাস ছাড়েন। পরে ১৬ অক্টোবর অনলাইন সিন্ডিকেট সভায় অচলাবস্থা নিরসনে ইউজিসির মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
দীর্ঘদিনের আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি বিভাগের ৩৪টি পরীক্ষা স্থগিত হয়ে গেছে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply