1. dailychatoniaymuktijuddha@gmail.com : admin :
October 23, 2026, 8:34 am
Title :
বিকাশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ৭ লাখ টাকা লুট, সরদারসহ গ্রেপ্তার ৫ বিকাশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ৭ লাখ টাকা লুট, সরদারসহ গ্রেপ্তার ৫ বিকাশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ৭ লাখ টাকা লুট, সরদারসহ গ্রেপ্তার ৫ বিকাশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ৭ লাখ টাকা লুট, সরদারসহ গ্রেপ্তার ৫ বিকাশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ৭ লাখ টাকা লুট, সরদারসহ গ্রেপ্তার ৫ কালিয়াকৈরে কাজলি সিএনজি স্টেশনে গ্যাস বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাজাপুরে বিকাশ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ৭ লাখ টাকা লুট, সরদারসহ গ্রেপ্তার ৫ টেকনাফ সীমান্তে মানবপাচারের শিকার দুই রোহিঙ্গা কিশোর উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ সাংবাদিকদের ঐক্য ও কল্যাণে কাজ করতে চান রতন বড়ুয়া, সিআরএ নির্বাচনে প্রচার সম্পাদক পদে প্রার্থী ঈদগাঁওয়ে পিকআপে লুকানো ১৮ হাজার ৭৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

মা-ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞায় বিপাকে হালিশহরের বহু জেলে, ঋণের চাপে দিশেহারা

জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল
  • Update Time : Thursday, October 22, 2026
  • 5 Time View

নিজস্ব প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম | ২২ অক্টোবর ২০২৬

মা-ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞায় আর্থিক সংকটে পড়েছেন চট্টগ্রামের উত্তর হালিশহরের বহু মৎস্যজীবী। সাগরে মাছ ধরতে নামার প্রস্তুতি নিতে জমি বন্ধক রেখে ও ধারদেনা করে পুঁজি সংগ্রহ করেছিলেন আব্দুল মান্নান ও তাঁর ভাগিনা নুরনবি। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে মাছ ধরতে না পারায় এখন ঋণের বোঝা ও দৈনন্দিন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের।

সরকারি ঘোষণায়, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশ মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ রয়েছে। মা-ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় নেওয়া এ পদক্ষেপের প্রভাব পড়েছে উত্তর হালিশহরের বারুনি ঘাট, রাণী রাসমণি ঘাটসহ আশপাশের উপকূলীয় এলাকার মৎস্যজীবীদের জীবিকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর হালিশহরের গলিচিপা এলাকার আব্দুল মান্নান ও তাঁর ভাগিনা নুরনবিসহ অনেক জেলে ইলিশ মৌসুমে ভালো আয়ের আশায় নিজেদের শেষ সম্বলটুকু কাজে লাগিয়েছেন। কেউ জমি বন্ধক রেখেছেন, আবার কেউ আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে পুঁজি সংগ্রহ করেছেন। সেই অর্থে বড় নৌকা ভাড়া করার পাশাপাশি বেশি মাছ ধরার আশায় ভোলা থেকে চুক্তিভিত্তিক দক্ষ জেলেও নিয়ে এসেছেন তাঁরা।

কিন্তু সব প্রস্তুতি শেষ করে সাগরে নামার আগেই নিষেধাজ্ঞার কারণে তাঁদের মাছ ধরার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে সাগরে আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় অনেক জেলের তেলের খরচও ওঠেনি বলে জানা গেছে। এর মধ্যে টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঋণের কিস্তি, দাদনের টাকা ও ধারদেনা পরিশোধ নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।

আয় বন্ধ, কিন্তু খরচ থেমে নেই

জেলেদের দুর্ভোগের বড় কারণ হলো, সাগরে মাছ ধরতে না পারলেও তাঁদের ব্যয় কমছে না। নৌকা ও ট্রলারের ভাড়া, চুক্তিভিত্তিক জেলেদের বেতন এবং তাঁদের খাবারের খরচ বহন করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় পরিবারের দৈনন্দিন খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারিভাবে দেওয়া ভিজিএফের চাল অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত হয় কিংবা সময়মতো পৌঁছায় না। ফলে নিষেধাজ্ঞার পুরো সময় সংসার চালানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকতে হয় তাঁদের।

ঘাটে অলস পড়ে আছে নৌকা-ট্রলার

নিষেধাজ্ঞার কারণে বারুনি ঘাটে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার নোঙর করে রাখা হয়েছে। এ সময়ে অনেক জেলে পুরোনো জাল বোনা, ট্রলারের ইঞ্জিন মেরামত ও নৌকায় রং করার মতো কাজে সময় কাটাচ্ছেন। তবে এসব কাজ তাঁদের নিয়মিত আয়ের বিকল্প হতে পারছে না।

এদিকে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, তীব্র আর্থিক সংকটের কারণে বারুনি ঘাট ও আশপাশের আনন্দবাজার ও ধুমপাড়া উপকূলের কিছু জেলে রাত কিংবা ভোরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের ঘটনায় প্রশাসনের অভিযানে জেলেদের আটক ও জরিমানার ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে।

মৎস্যজীবীদের একটি অংশের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা ও এর আর্থিক প্রভাব সম্পর্কে পর্যাপ্ত আগাম সচেতনতা না থাকায় অনেকে প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন। তবে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি তাঁদের আগে থেকে জানা ছিল না—এ দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।

সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবি

মা-ইলিশ রক্ষা ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ সময়ে জেলেদের জীবিকা সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। তাঁদের মতে, সময়মতো পর্যাপ্ত খাদ্যসহায়তা, সহজ শর্তে আর্থিক সহায়তা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে ঋণের চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব।

আব্দুল মান্নান ও নুরনবিসহ উত্তর হালিশহরের বহু মৎস্যজীবী এখন নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। সাগরে মাছ ধরতে না পারায় একদিকে তাঁদের আয় বন্ধ, অন্যদিকে নৌকা ভাড়া ও চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের খরচ বহন করতে হচ্ছে। জমি বন্ধক ও ধারদেনার অর্থ পরিশোধের অনিশ্চয়তায় তাঁদের পরিবারগুলোও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

মা-ইলিশ রক্ষার সরকারি উদ্যোগ সফল করতে জেলেদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞাকালীন সহায়তা যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ঢাকা থেকে প্রকাশিত  বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা    

© All rights reserved © 2018 News Smart

Themes By ShimantoIT.com