নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের কোম্পানিজোত এলাকায় কৃষিজমির চারপাশে ইউক্যালিপটাসের চারা রোপণের অভিযোগ উঠেছে। এতে আশপাশের জমিতে চা, বেগুন, ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, চা, বেগুন ও ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতের পাশে ফাঁকা জমির চারপাশে ইউক্যালিপটাসের চারা রোপণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব গাছ বড় হলে আশপাশের কৃষিজমিতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানিজোত এলাকার বাসিন্দা শামীম আল মামুন তাঁর প্রায় এক একর জমির চারপাশে এসব চারা রোপণ করেছেন। ওই জমির আশপাশে বিভিন্ন ধরনের ফসলের আবাদ রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, ইউক্যালিপটাস গাছের পানি শোষণের কারণে আশপাশের ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। এতে ফলন কমে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন তাঁরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, “সরকার ইউক্যালিপটাস গাছ রোপণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে বলে আমরা জানি। অথচ আমার পাশের জমির মালিক এসব গাছ রোপণ করেছেন। আমি জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করছি। তাই ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”
জমির মালিক শামীম আল মামুন বলেন, “আমি গাছ রোপণ করেছি। প্রশাসন আসুক, তুলে দিক।”
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনসুর আলী বলেন, “আশপাশের কৃষকেরা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। আমি ইউএনও মহোদয়কে বিষয়টি অবগত করেছি।”
উল্লেখ্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছের চারা রোপণ, উত্তোলন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করে ২০২৫ সালের ১৫ মে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে এসব গাছের পরিবর্তে দেশীয় প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ অবস্থায় কৃষকদের উদ্বেগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply