
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দুই দিন বয়সী এক নবজাতককে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নবানী রানী ওরফে লাভলী আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। প্রায় দুই বছর আগের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিশুটির বর্তমান অবস্থান ও কথিত লেনদেনের বিষয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবানী রানীর সঙ্গে মো. ফরহাদ (৩৯) নামের এক ব্যক্তির পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ফরহাদের বাড়ি শেরপুর জেলার শ্রীবরদী এলাকায়। তাঁর বাবা মৃত আব্দুল আজিজ এবং মা মোছা. কুহিনূর বেগম।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরহাদ কালিয়াকৈরের বাড়ইপাড়া এলাকার একটি দোকানে কাজ করতেন। একটি হোটেলে মাসিক চুক্তিতে খাবার খাওয়ার সময় তাঁদের পরিচয় হয়। পরে সেই পরিচয় প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয় এবং একপর্যায়ে তাঁরা বিয়ে করেন। বিয়ের পর প্রথমদিকে তাঁদের দাম্পত্য জীবন ভালোভাবেই চলছিল বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় এক বছর সাত মাসের দাম্পত্য জীবনের একপর্যায়ে নবানী রানী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালে তাঁদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এর পরবর্তী সময়ে তাঁদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে বিরোধের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নবজাতক বিক্রির অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, সন্তান জন্মের পর মাত্র দুই দিন বয়সী ছেলেশিশুটিকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কালিয়াকৈর থানা পুলিশের এক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়ভাবে প্রচারিত এ দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা প্রমাণ এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয়, শিশুটিকে হস্তান্তরের পরিস্থিতি এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার কিছুদিন পর সংশ্লিষ্ট ওই পুলিশ কর্মকর্তা বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। তবে এ বিষয়ে থানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
পরিচয় ও ঠিকানা নিয়ে আলোচনা
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই নারী কখনো নবানী রানী, আবার কখনো লাভলী আক্তার নামে পরিচিত ছিলেন। কালিয়াকৈর-নবীনগর সড়কের পাশে এব্রিফোটার কোম্পানির নিকটবর্তী এলাকায় আব্দুল লতিফ ও তারা ভানুর ভাতের হোটেলে রাঁধুনি হিসেবে কাজ করার সময় তাঁর সঙ্গে ফরহাদের পরিচয় হয়েছিল বলে জানা গেছে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, নবানী রানীর বাবা শ্রী কানাই দাস মণ্ডল এবং মা শ্রীমতী অংকুরী রানী মণ্ডল। তাঁদের গ্রামের বাড়ি জামালপুর জেলার মেলান্দহ থানার চকন্যপুর উত্তরপাড়া এলাকায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
শিশুটির সন্ধান ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
ঘটনাটি সত্য হলে শিশুটির বর্তমান অবস্থান, নিরাপত্তা এবং কথিত অর্থ লেনদেনের সঙ্গে কারা জড়িত—তা নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে শিশুটিকে কী পরিস্থিতিতে এবং কার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল, সে বিষয়েও তদন্ত প্রয়োজন।
এ বিষয়ে নবানী রানী ও মো. ফরহাদের বক্তব্য,তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন আমার সাথে বড়ধরনে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় এবং কালিয়াকৈর থানা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।
উল্লেখ্য, নবজাতক বিক্রি ও পুলিশ কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো অভিযোগ হিসেবে উত্থাপিত হয়েছে। স্বাধীনভাবে যাচাই ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ছাড়া এসব অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply