1. dailychatoniaymuktijuddha@gmail.com : admin :
November 6, 2026, 10:28 pm
Title :
নান্দনিক,আধুনিক ও জনবান্ধব তাহিরপুর উপজেলা গড়ার প্রত্যয় মিঠু পাল নাগরপুর বাজার বণিক সমিতির আহবায়ক কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সিংড়ায় পাখি শিকারে বাধা দেওয়ায় মাছচাষীকে গুলি, হাসপাতালে ভর্তি পীরযাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় হাবিবুর রহমান রনি শ্যামা পূজা ও দীপাবলিতে বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠীর শুভেচ্ছা তাহিরপুরের পাঠাবুকা ব্রিজে ২০ টাকা দিলেই মোটরসাইকেল পারাপার! পেকিন হাঁসের খামার গড়ে সাফল্য, মাসে আয় লাখ টাকার বেশি পেকিন হাঁসের খামার গড়ে সাফল্য, মাসে আয় লাখ টাকার বেশি পেকিন হাঁসের খামার গড়ে সাফল্য, মাসে আয় লাখ টাকার বেশি পেকিন হাঁসের খামার গড়ে সাফল্য, মাসে আয় লাখ টাকার বেশি

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে ঝিনাইগাতীর গজনী পর্যটন কেন্দ্র

মোঃ আকাব্বর হোসাইন রবিন
  • Update Time : Friday, November 6, 2026
  • 9 Time View

পাহাড়, বন, লেক ও সবুজের সমারোহে গড়ে ওঠা গজনী অবকাশ কেন্দ্র হতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: মোঃ আকাব্বর হোসাইন রবিন

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা গজনী অবকাশ কেন্দ্র প্রতিনিয়ত হাতছানি দিয়ে ডাকছে ভ্রমণপিপাসু মানুষকে। পাহাড়, বন, লেক, ঝুলন্ত সেতু, কৃত্রিম জলপ্রপাত আর সবুজের সমারোহে গড়ে ওঠা এ পর্যটনকেন্দ্র যেন প্রকৃতির এক অনন্য সৌন্দর্যের লীলাভূমি। যথাযথ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন করা হলে গজনী হতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য।

শেরপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার এবং ঝিনাইগাতী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার উত্তরে কাংশা ইউনিয়নে অবস্থিত গজনী অবকাশ কেন্দ্র। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এ জনপদ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ১৯৯৩ সালে শেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রায় ৯০ একর পাহাড়ি এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয় এ পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ পর্যটকরা

গজনী পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই মনোমুগ্ধকর। শাল, গজারি ও সেগুনগাছের সবুজ বন, ছোট-বড় টিলা, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ এবং নির্মল পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের সহজেই আকৃষ্ট করে। বিশেষ করে শীতের সকালে পাহাড়ের গায়ে কুয়াশার চাদর আর বিকেলের পড়ন্ত সূর্যের আলোয় পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

এখানে রয়েছে পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত সাইট ভিউ টাওয়ার। উঁচু টাওয়ারে দাঁড়িয়ে চারপাশের পাহাড়, বনভূমি ও সীমান্তবর্তী প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করা যায়। আকাশ পরিষ্কার থাকলে দূরের মেঘালয় পাহাড়ের সৌন্দর্যও পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দেয়।

লেক, ঝুলন্ত সেতু ও পদ্মসিঁড়ি বাড়িয়েছে আকর্ষণ

গজনী অবকাশ কেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ কৃত্রিম লেক। লেকের পানিতে পাহাড় ও গাছপালার প্রতিবিম্ব এক মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করে। এ ছাড়া রয়েছে ঝুলন্ত সেতু, পদ্মসিঁড়ি, কৃত্রিম জলপ্রপাতসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক স্থাপনা।

পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের পাশাপাশি শিশুদের জন্যও রয়েছে বিনোদনের বিভিন্ন ব্যবস্থা। পর্যটকেরা এখানে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি ছবি তোলা, নৌবিহার এবং পাহাড়ি পরিবেশে অবসর সময় কাটানোর সুযোগ পান।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবন-সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ পাহাড়ি জনপদ

গজনী পাহাড়ের আশপাশে বসবাস করেন গারোসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ। তাঁদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা এ পাহাড়ি জনপদকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানার সুযোগ পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে। তাঁদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যথাযথভাবে তুলে ধরা গেলে গজনীর পর্যটন আকর্ষণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

পর্যটনের অপার সম্ভাবনা, প্রয়োজন পরিকল্পিত উন্নয়ন

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ভৌগোলিক অবস্থান ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে গজনী পাহাড়কে ঘিরে পর্যটনশিল্পের রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এ অঞ্চল দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

তবে এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন পর্যটনকেন্দ্রের নিয়মিত সংস্কার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ যাতায়াতব্যবস্থা, উন্নত শৌচাগার, পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও জরুরি।

বিশেষ করে পাহাড় ও বনভূমির প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অপরিকল্পিত স্থাপনা, প্লাস্টিক বর্জ্য ও বন উজাড়ের মতো ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে এ প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা প্রয়োজন।

স্থানীয় অর্থনীতিতে রাখতে পারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান

গজনীকে কেন্দ্র করে পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটলে স্থানীয় মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। হোটেল-রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, স্থানীয় খাবার এবং ঐতিহ্যবাহী পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হতে পারে। এতে পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি শেরপুর জেলার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সব মিলিয়ে গজনী শুধু একটি বিনোদনকেন্দ্র নয়; এটি শেরপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনার এক অনন্য পরিচয়। পাহাড়, বন, লেক আর সবুজের অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ পর্যটনকেন্দ্র প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে হতে পারে এক প্রশান্তির ঠিকানা।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরা গজনীকে ঘিরে স্থানীয়দের প্রত্যাশা—প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে আধুনিক ও পরিকল্পিত পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। সঠিক উদ্যোগ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একদিন গজনী অবকাশ কেন্দ্র দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে—এমনটাই প্রত্যাশা ভ্রমণপিপাসু মানুষের।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ঢাকা থেকে প্রকাশিত  বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা    

© All rights reserved © 2018 News Smart

Themes By ShimantoIT.com