নিজস্ব প্রতিনিধি: জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সদর থেকে মাত্র দুই মিনিটের দূরত্বে নলেয়া গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বছরের পর বছর সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার পরিবারের মানুষ। দ্রুত সংস্কারের দাবিতে ক্ষোভ ও প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নলেয়া গ্রামের এই সড়ক দিয়ে চর ভূরুঙ্গামারী ও তিলাই ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এবং নদীর পশ্চিম পাড়ের কয়েক হাজার পরিবারের মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। অনেককে বিকল্প পথে ২০-২৫ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
কৃষিপণ্য পরিবহনে বাধা, ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত কৃষক
নলেয়া ও আশপাশের চরাঞ্চলে কয়েকশ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও কৃষিপণ্য উৎপাদন করেন কৃষকরা। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। সময়মতো কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে না পারায় অনেক কৃষক ন্যায্য মূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, জরুরি রোগী পরিবহন কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও সড়কটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্বের আশঙ্কা থাকে। অন্যদিকে ভাঙাচোরা সড়কে চলাচলের সময় মাঝেমধ্যে অটোরিকশা ও মাটি পরিবহনের ভটভটি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে।
অন্যান্য সড়কের সংস্কার হলেও উপেক্ষিত নলেয়ার রাস্তা
স্থানীয়দের ক্ষোভের অন্যতম কারণ, উপজেলার বেশ কয়েকটি তুলনামূলক ভালো সড়ক ভেঙে নতুন করে সংস্কার করা হলেও নলেয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিনেও সংস্কারের আওতায় আসেনি।
তাঁদের উল্লেখ করা সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে—জামতলা থেকে পুরাতন থানাপাড়া মোড় হয়ে গার্লস স্কুল ও পুরাতন সোনালী ব্যাংক পর্যন্ত, কলেজ মোড়ের পূর্বে প্রিয়াংকা মিষ্টির দোকান থেকে পুরাতন থানাপাড়া মোড় হয়ে সিনিয়র মাদ্রাসা পর্যন্ত, সোনাহাট কলেজ মোড় থেকে চর ভূরুঙ্গামারীগামী সড়ক এবং ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বাগভান্ডার বর্ডার পর্যন্ত সড়ক।
এসব সড়কে সংস্কারকাজ সম্পন্ন হলেও নলেয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসাধারণের চলাচলের সড়কটি অবহেলিত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে বৈষম্যের প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
ফেসবুকে ক্ষোভ, একাধিকবার আবেদন করেও মেলেনি সমাধান
সড়কটির দুরবস্থা নিয়ে ছাত্র রাকিব, শরিফ, ব্যবসায়ী রুহুল আমিন, জাহিদুল, আপেল মিয়াসহ এলাকার সচেতন নাগরিকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি তুলে ধরা হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
গণমাধ্যমকর্মী মোঃ মাইদুল ইসলাম প্রায় এক বছর আগে সড়কটি সংস্কারের জন্য আবেদন করার পাশাপাশি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা গেছে। কিন্তু এরপরও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
তাঁদের ভাষ্য, সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে রিকশাচালকরা অনেক সময় সামাদের ঘাট পর্যন্ত যেতে চান না। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়ার জন্য যানবাহন পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে কখনো কখনো এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা জবান আলী ফেসবুকে লেখেন, সংসদ সদস্য মহোদয়ের উচিত যেখানে জনদুর্ভোগ বেশি, সেখানে সরেজমিনে পরিদর্শন করা। দীর্ঘদিনের বেহাল সড়কটি দেখে জনগণকে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ভূরুঙ্গামারী সদর থেকে মাত্র দুই মিনিটের দূরত্বে নলেয়া গ্রামের এই সড়কটি ৫-৬ বছর ধরে চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
বাজেট হয়েছে, বরাদ্দ পেলে কাজ শুরুর আশ্বাস প্রকৌশলীর
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আহসান হাবীবের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তাঁর পূর্বের বক্তব্য অনুযায়ী, সড়কটির জন্য বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
এদিকে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, সংসদ সদস্য জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ভূমিকা রাখবেন।
দীর্ঘ ৫-৬ বছরের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান নলেয়া ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত সড়ক সংস্কারের দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, শিক্ষার্থীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply