
মিসেস চামেলী আক্তার প্রিয়া: নিজের জীবনের কথা একবারও না ভেবে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে একে একে বিপদে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন তরুণ সৌরভ মিয়া। শিশুসন্তানসহ এক নারীকে নিরাপদে তীরে তুলে দিতে সক্ষম হলেও অন্যদের উদ্ধারে আবারও নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই উদ্ধার অভিযানে আর ফিরে আসেননি সৌরভ নিজেও। স্রোতের টানে নদীর গভীরে তলিয়ে যান এই সাহসী তরুণ।
ঘটনাটি ঘটে দুপুরের দিকে। পরিবারের ছয় সদস্য শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে যান। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন নদীতে নামার পর গোসলের একপর্যায়ে শান্তা আক্তার পানিতে তলিয়ে যেতে থাকেন। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়ে তাঁর বোন শাহীনুর আক্তারও সন্তানসহ পানিতে হাবুডুবু খেতে থাকেন।
পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে উঠলে ওবায়দুল্লাহ ও শান্ত তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু একে একে তাঁরাও নদীর স্রোতে বিপদে পড়ে যান। পরিবারের সদস্যদের এমন করুণ পরিস্থিতি দেখে তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন তরুণ সৌরভ মিয়া।
সৌরভ নিজের জীবনের ঝুঁকির কথা না ভেবে নদীতে ঝাঁপ দেন। প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে শিশুসন্তানসহ শাহীনুর আক্তারকে উদ্ধার করে নিরাপদে নদীর পাড়ে তুলে দেন তিনি।
কিন্তু বিপদ তখনও কাটেনি। আরও কয়েকজনকে উদ্ধারের জন্য সৌরভ আবারও নদীতে ঝাঁপ দেন। এবার ভয়ংকর স্রোতের কাছে হার মানতে হয় তাঁকে। অন্যের জীবন রক্ষা করতে গিয়ে নিজেই নদীর গভীরে তলিয়ে যান সৌরভ।
একজন মানুষের মানবিকতা ও সাহস কতটা গভীর হলে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে বিপদে পড়া মানুষের জীবন বাঁচাতে এমন ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব—সৌরভ মিয়ার এই আত্মত্যাগ তারই এক মর্মস্পর্শী দৃষ্টান্ত।
স্বজনদের কাছে সৌরভ ছিলেন পরিবারের গর্বিত সন্তান। কিন্তু তাঁর এই আত্মত্যাগ এখন তাঁকে শুধু পরিবারের নয়, যাঁদের জীবন রক্ষায় তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন তাঁদের কাছেও স্মরণীয় করে রাখবে।
জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করা সৌরভ মিয়া মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবেন।
পরিবার ও স্বজনরা তাঁর মরদেহ উদ্ধারের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো পরিবারে।
সৌরভের এই আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে স্বজনদের একটাই প্রার্থনা—আল্লাহ যেন তাঁকে ক্ষমা করেন এবং জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন। আমিন।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply