
এবাদুল হোসেন,ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম নগরীর পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকায় শাহিন নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এবার গণমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্য নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং এলাকাবাসীর ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সময়ের দাবি।
জানা যায়, গত ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বিকেল আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকার ১ নম্বর গলির আবদুল সালাম জামে মসজিদের সামনে গুরুতর আহত অবস্থায় শাহিন নামে এক ব্যক্তিকে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। বিষয়টি জানতে পেরে আশপাশের লোকজন দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত শাহিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে একটি স্থানীয় অনলাইনভিত্তিক মাল্টিমিডিয়া গণমাধ্যমের প্রতিনিধি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। সেখানে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সময় কয়েকজন ক্যামেরার সামনে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন এবং তাদের ভাষ্যমতে অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে একই সময় অপর এক যুবক, যিনি নিজেকে নিহতের স্বজন হিসেবে পরিচয় দেন, ক্যামেরার সামনে ভিন্ন একটি বক্তব্য দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ীর নাম উল্লেখ করে হত্যাকাণ্ডে তাদের জড়িত থাকার দাবি করেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে নিহত শাহিনের স্ত্রী জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তাকে বলেন, “জাহাঙ্গীর ও আলম নামের কাউকে আমি চিনি না। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। আমার স্বামীর হত্যাকারীদের আমি শনাক্ত করেছি এবং তাদের বিরুদ্ধে সদরঘাট থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আমি আমার স্বামীর প্রকৃত হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এদিকে, জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তার অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অবস্থান সম্পর্কে স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায় উল্লেখ করা , ঘটনার সময় মাছ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর ও আলম নিজ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মব্যস্ত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর ও আলম বলেন, সি প্লাস টিভিতে তাদের বিরুদ্ধে যে ব্যক্তি বক্তব্য দিয়েছেন, তার সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের মামলা-মোকদ্দমা চলমান রয়েছে। তাদের দাবি, পূর্বের বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাদের নাম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া তারা অভিযোগ করেন, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় তাদের ভয়ভীতি ও চাপ দেওয়া হয়েছে।
এলাকার সচেতন মহলের ভাষ্য, কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্যও ক্ষতিকর। তারা প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ থাকলে তা-ও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সদরঘাট থানার একটি পুলিশ সূত্র জানায়, নিহত শাহিনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এজাহার দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এজাহার পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রকৃত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ গুরুত্ব সহকারে কাজ করবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply