
নিজস্ব প্রতিবেদক: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা—রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক চূড়ান্ত ধৃষ্টতা। সেই ধৃষ্টতার চরম মূল্য দিতে শুরু করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের ত্রাস ‘সফিক ডাকাত’। গত কয়েকদিন ধরে জনমনে শঙ্কা ও ক্ষোভের জন্ম দেওয়া এই কুখ্যাত অপরাধীকে অবশেষে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
রোববার দিবাগত রাতে র্যাব-৯ ও র্যাব-১০-এর একটি বিশেষ যৌথ দল এক নিখুঁত অভিযানের মাধ্যমে সফিককে তার গোপন আস্তানা থেকে পাকড়াও করে। সোমবারই তাকে নিয়ে আসা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।
অপরাধীদের জন্য সতর্কবার্তা
সফিক ডাকাতের গ্রেপ্তারের ঘটনাটি শুধু একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, এটি অপরাধী জগতের জন্য একটি কড়া হুঁশিয়ারি। যারা পেশাগত দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা করার দুঃসাহস দেখায়, তাদের মনে রাখা উচিত—দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পালিয়ে গিয়েও শেষ রক্ষা হবে না। প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা নজরদারির এই যুগে অপরাধীদের লুকানোর কোনো জায়গা নেই।
জননিরাপত্তায় স্বস্তি
দীর্ঘদিন ধরে নবীনগরের জনপদকে জিম্মি করে রাখা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা সফিক ডাকাতের পতনে এলাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস বইছে। স্থানীয়দের মতে, তার গ্রেপ্তার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সাধারণ মানুষ এখন আশাবাদী যে, যারা সমাজ ও রাষ্ট্রে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চায়, তাদের জায়গা জেলখানাতেই।
র্যাবের দৃঢ় অবস্থান
র্যাবের ঊর্ধ্বতন সূত্র নিশ্চিত করেছে, সফিককে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এই নৃশংস হামলার ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচিত হবে। একইসঙ্গে, ঘটনার সময় যারা তাকে সহায়তা করেছে কিংবা আড়ালে থেকে মদত দিয়েছে, তাদের তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে। কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যেই হোক, আইন তার আপন গতিতেই চলবে।
সচেতন হোক সমাজ
সফিক ডাকাতের এই পতন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অপরাধীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া বা তাদের ভয় পেয়ে চুপ থাকাটা কোনো সমাধান নয়। সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। মনে রাখবেন, অপরাধীর জয় সাময়িক, কিন্তু আইনের বিজয়ই শেষ কথা।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply