
নিজস্ব সংবাদদাতা, মো. কুতুব উদ্দিন: আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে মোট বাজেটের অন্তত ২৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, একটি উন্নয়নশীল দেশের টেকসই অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষা। অথচ বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাখাতে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন, আবাসন, গ্রন্থাগার, ল্যাবরেটরি ও শিক্ষার্থীদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তাঁরা আসন্ন জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তামজিদ হায়দার চঞ্চলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সহ-সভাপতি নাঈম উদ্দিন, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সমর চাকমা, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী এবং বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দিলীপ রায়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকার পরিবর্তন হলেও শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। তাঁরা বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ছাড়া একটি দক্ষ, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি সমর চাকমা তাঁর বক্তব্যে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ, বৈষম্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও উন্নয়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।
গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী বলেন, জাতীয় বাজেট প্রণয়নে সাধারণ মানুষের মতামতের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি দিলীপ রায় বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নানা সংকটে রয়েছে। শিক্ষাখাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত না হওয়ায় শিক্ষার ব্যয় বাড়ছে এবং নিম্নআয়ের পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।
সভাপতির বক্তব্যে সালমান সিদ্দিকী বলেন, ইউনেস্কোসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষা সংস্থাগুলোর সুপারিশ অনুযায়ী উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জাতীয় বাজেটের অন্তত ২৫ শতাংশ অথবা জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আধুনিক গবেষণাগার, মানসম্মত গ্রন্থাগার, পর্যাপ্ত আবাসন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। এসব সংকট কাটিয়ে উঠতে শিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য হারে বাজেট বৃদ্ধি সময়ের দাবি।
সমাবেশ থেকে বক্তারা শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক খাতে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া তাঁরা মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিও উত্থাপন করেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply