
মালিকুজ্জামান কাকা: মান্দারতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে রাতারাতি একটি মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়েছে। মান্দারতলা নামে এই মাদ্রাসা কেন স্থাপন করা হয়েছে তা গ্রামবাসীর বোধগম্য হচ্ছেনা। গ্রামবাসীর অভিযোগ স্কুলের জমি দখলের দুরভসন্ধি থেকে এই মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়েছে। মাদ্রাসা স্থাপনে স্কুল কমিটির অনুমতি ছাড়াই বড় জাম গাছ চারটি, কাঁঠাল গাছ দুটি, আম গাছ একটি কেঁটে বিক্রি করেছে মাদ্রাসার নাম মাত্র কমিটি।এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মান্দারতলা গ্রামবাসী।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, ১৯৫৬ সালে স্থাপিত মান্দারতলা প্রাইমারি স্কুলের মোট জমির পরিমান ৭২ শতক। এর মধ্যে এক স্থানে ৬৬ শতক, বাকি ছয় শতক মান্দারতলা বাজারে অবস্থিত। ঐ ছয় শতকের সাবেক দাগ নম্বর ১৭২৫। এর সাথে খলিলের ও আনারুল মাস্টারের জমি রয়েছে। এই জমিতে থাকা ঘরে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইদ্রাকপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস হয়েছে। এরপর ১৯৯২ সালে বিডিআর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। বিডিআর ২০১০ সালের পর পর জায়গাটি ছেড়ে যায়। ২০২৬ সালে রাতারাতি মান্দারতলা মাদ্রাসা স্থাপন করেছে একটি চক্র।
গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, একই গ্রামের ওমর আলীর ছেলে শিপন, মলুক চাঁদের ছেলে আব্দুল হামিদ মাস্টার, নূর হকের ছেলে রনি, রয়েলের ছেলে মনি, রসদের ছেলে হজরত জমিটি জবর দখল করে মাদ্রাসা বসানো হয়েছে। গ্রামবাসীর মাদ্রাসা নিয়ে দ্বিমত নেই কিন্তু স্কুলের জমিতে কেন মাদ্রাসা এই প্রশ্ন। আর স্কুল কমিটির অনুমতি ব্যাতিরেকে কেন গাছ কাঁটা হলো এই প্রশ্ন সকলের। কোন রেজুলেশন ছাড়া মাদ্রাসা কমিটি করা হয়েছে যার সভাপতি মাসুম পারভেজ ও সেক্রেটারি জনৈক টিটো। তবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানায়, তিনজন মহিলা শিক্ষক ও দুইজন পুরুষ শিক্ষক মাদ্রাসায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে কিসের ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ তা গ্রামবাসীর অজানা।
মান্দারতলা প্রাইমারি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাবুল ইসলাম বলেন, স্কুলের গাছ কেঁটে মাদ্রাসা স্থাপন রাতারাতি। কিন্তু আমাদের কিছুই জানায়নি।
মান্দারতলা বাজারের ব্যাবসায়ী ও গ্রামবাসী পিকুল কবীর বলেন, মান্দারতলা প্রাইমারি স্কুলের জমির গাছ কাটতে দেখে আমি ইউএনও এবং প্রধান শিক্ষককে ফোনে জানাই। তারা বলেন কোন অনুমতি ছাড়াই গাছ কাঁটা হয়েছে। এ বিষয়ে নোটিস করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে মাদ্রাসার নামে সেখানে জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকান্ড চলছে। এটি সাধারণ গ্রামবাসীর কাম্য নয়। আমরা এর বিরোধিতা করেছি।
গ্রামবাসী মামুন, তুহিন, আমিনুর রহমান, হামিদুর রহমান, মিজানুর রহমান, পাচু মন্ডল বলেন প্রাইমারি স্কুলের জমি দখল করে মাদ্রাসা স্থাপনে আমরা উদ্দিগ্ন। স্কুল কমিটির ও অনুমতি ছাড়া গাছ কাঁটা ও মাদ্রাসা স্থাপন কোন সুস্থ মস্তিষ্কের কাজ হতে পারেনা। আমরা এর চরম বিরোধী।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply