
বিশেষ প্রতিনিধি: গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের ন্যায্য স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন ব্যক্তিদের গেজেট দ্রুত প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। বুধবার বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর শিশু কল্যাণ পরিষদে আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করে তারুণ্যের জুলাই ফাউন্ডেশন।সংবাদ সম্মেলনে ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আহাদুল ইসলাম বলেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নই; আমরা জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের অধিকারের পক্ষে।”আয়োজকেরা জানান, যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে তালিকাভুক্ত করার দাবি তাঁদের নয়। বরং ভুয়া দাবিদারদের শনাক্ত করে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে তাঁরা সমর্থন করেন। তবে যাঁদের তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং এনএসআই, পিবিআই, ডিএসবি ও সংশ্লিষ্ট থানা থেকে ছাড়পত্র পাওয়া গেছে, তাঁদের গেজেট অবিলম্বে প্রকাশের দাবি জানান তাঁরা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে ৪৯০ জনের তালিকা স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া ১ হাজার ২০০-এর বেশি এমআইএস-সম্পন্ন আবেদন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গেজেটের অপেক্ষায় রয়েছে। ১৬টি জেলার ২৩১ জনের আবেদন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। জন্মতারিখের নথির অভাবে ১৫০টির বেশি আবেদন অসম্পূর্ণ এবং ১৫৫ জনের ক্যাটাগরি সংশোধন বাকি রয়েছে। বগুড়া, গাইবান্ধা, যশোর ও নারায়ণগঞ্জসহ ২০টি জেলার ফাইল জেলা প্রশাসক ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে অমীমাংসিত রয়েছে বলেও দাবি করেন আয়োজকেরা।তাঁরা আরও জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি ও গণস্বাক্ষর জমা দেওয়ার পরও এসব সমস্যার সমাধান হয়নি। রাসেল, আশরাফুল ও সাব্বির হোসেন মুন্নাসহ কয়েকটি শহীদ পরিবারের সদস্য এখনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অপেক্ষায় রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গেজেটভুক্ত না হওয়ায় পঙ্গুত্ববরণকারী, দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং গুরুতর আহত অনেক জুলাই যোদ্ধা প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আয়োজকদের দাবি, চিকিৎসার অভাবে কুমিল্লায় একজন এবং প্রায় দুই মাস আগে রংপুরে জুলাই যোদ্ধা মধু মৃত্যুবরণ করেছেন। বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানে জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ সময়।
সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—৪৯০ জনের তালিকায় অবিলম্বে স্বাক্ষর করে গেজেট প্রকাশ; অপেক্ষমাণ ১ হাজার ২০০-এর বেশি আবেদন এবং আটকে থাকা জেলাগুলোর গেজেট পাঁচ দিনের মধ্যে প্রকাশ; আহত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য সহজলভ্য ও উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা; স্বীকৃতিবঞ্চিত শহীদ পরিবারের জন্য বিশেষ যাচাই কমিটি গঠন; এবং জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান।
সংবাদ সম্মেলনে মো. সাগর উদ্দিন বলেন, “জুলাই যোদ্ধারা রাষ্ট্রের কাছে দয়া চান না, তাঁরা তাঁদের ন্যায্য স্বীকৃতি ও চিকিৎসা চান। প্রতিটি দিনের বিলম্ব কারও জীবনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে জুলাই যোদ্ধাদের পাশে থেকে পাঁচ দিন পর শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও জানান আয়োজকেরা। আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবার ও তারুণ্যের জুলাই ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ক্লাব (WIPC) ও ঢাকা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের ন্যায্য অধিকার, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। যাঁদের যাচাই-বাছাই ও তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, তাঁদের গেজেট দ্রুত প্রকাশের জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ভুয়া দাবিদারদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া অবশ্যই চলবে। তবে যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পরও প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা যেন দীর্ঘদিন স্বীকৃতিবঞ্চিত না থাকেন। গুরুতর আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অসহায় শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো সরকারের মানবিক দায়িত্ব। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তাঁদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply