
মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম: খুলনার ডুমুরিয়ায় মুয়াজ্জিন কারিমুল ইসলামকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের তদন্তে হত্যাচেষ্টার নেপথ্যে তার স্ত্রী মুর্শিদা বেগমের সঙ্গে গ্রেপ্তার মিন্টু বিশ্বাসের কথিত পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের ধারণা, ওই সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো কারিমুল ইসলামকে সরিয়ে দিতেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৫ জুলাই গভীর রাতে ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস নোয়াকাটি বাজার জামে মসজিদ এলাকায়। কারিমুল ইসলাম ওই মসজিদের মুয়াজ্জিন। ওই রাতে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও পুলিশ জানায়, ঘটনার আগে কারিমুলকে চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তার ওপর হামলা চালানো হয়। তবে এ ঘটনার সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত এবং হামলার পরিকল্পনা কীভাবে করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে মিন্টু বিশ্বাসকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিল পুলিশ। ৫০ বছর বয়সী মিন্টু খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর এলাকার মধ্যডাঙ্গা উত্তরপাড়ার বাসিন্দা এবং জব্বার আলী বিশ্বাসের ছেলে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর থেকেই মিন্টু আত্মগোপনে ছিলেন। এক জায়গায় বেশিদিন অবস্থান না করে তিনি বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। কখনো ভাড়া বাসায়, কখনো অন্য এলাকায় অবস্থান করায় তাকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
শেষ পর্যন্ত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে ডুমুরিয়া থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত পৌনে ৮টার দিকে ডুমুরিয়া বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন মির্জাপুর সড়কের একটি সেলুনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আল-আমিন বলেন, ঘটনার পর থেকে মিন্টু পলাতক ছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এবং হত্যাচেষ্টার পেছনের কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply