
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক কলেজছাত্রীকে কক্ষে আটকে রেখে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক ও বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাসের পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। একই সঙ্গে ওই ছাত্রীকে উদ্ধারে সহযোগিতাকারী সহপাঠীদের ভয়ভীতি দেখানো, মারধর ও মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই কলেজছাত্রীকে ডেকে নিয়ে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এ অবস্থায় তিনি মোবাইল ফোনে সহপাঠীদের কাছে সাহায্য চান। পরে সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় তাঁকে উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ রয়েছে, বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে তাঁদের আন্দোলন বন্ধ করা হয়। তবে কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে একটি পক্ষ। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
ছাত্রীকে উদ্ধারে সহযোগিতাকারী সহপাঠী আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “ছাত্রীকে উদ্ধারের পর থেকেই একটি পক্ষ আমাকে ফোনে এবং সরাসরি বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এ বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো এবং মারধর করে হাত-পা ভেঙে ফেলারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমিসহ আমার সহপাঠীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।”
এ ধরনের অভিযোগের পর ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বাদাঘাট সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আক্তার বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে ঘটনাটি কলেজের বাইরে ওই শিক্ষকের নিজ বাসায় ঘটেছে। তাই এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সরাসরি কিছু করার নেই। ওই ছাত্রীর পক্ষ থেকে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে সহযোগিতা চাওয়া হলে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করব।”
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনি দেবী বলেন, “বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।”
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, “এখন পর্যন্ত ছাত্রীর পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি। ছাত্রীর পক্ষ থেকে কেউ অভিযোগ দিলে তাঁকে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ছাত্রী, তাঁর সহপাঠী ও সম্ভাব্য সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কেউ ভয়ভীতি বা চাপের মুখে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—বিচারের আশ্বাস দেওয়ার পরও কেন এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই? তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করবে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য: এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। অভিযোগের স্বাধীন যাচাই ও যথাযথ তদন্তের আগে কাউকে চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত করা সমীচীন নয়।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply