
মিসেস প্রিয়া আক্তার: গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও জেলার বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক, হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসাসেবার নামে নানা ধরনের অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন নিম্নআয়ের ও অসচ্ছল রোগী এবং তাদের স্বজনরা। অসুস্থ শরীর নিয়ে চিকিৎসার আশায় ক্লিনিকে গিয়ে অনেকেই ফিরছেন বাড়তি আর্থিক চাপ ও হতাশা নিয়ে—এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনেক বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিতে গেলে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ভিজিট ফি দিতে হচ্ছে। এরপর রোগী দেখার পর বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরীক্ষার খরচ, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয় মিলিয়ে অনেক পরিবারের জন্য চিকিৎসা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
তাদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ—এ নিয়ে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু কোন পরীক্ষা সত্যিই প্রয়োজন, আর কোনটি অতিরিক্ত—সেটি রোগী বা স্বজনদের অনেক সময় পরিষ্কারভাবে জানানো হয় না। ফলে অসহায় রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে একের পর এক পরীক্ষা করাতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের।
একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অসুস্থ মানুষ চিকিৎসার জন্য যায়, কিন্তু সেখানে গিয়ে যদি চিকিৎসার খরচের চাপে আরও অসহায় হয়ে পড়তে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?”
তাদের অভিযোগ, চিকিৎসকের ভিজিট ফি দেওয়ার পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরীক্ষা সম্পন্ন না করা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা বিস্তারিত পরামর্শ না পাওয়ার অনুভূতি তৈরি হচ্ছে। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—একজন রোগীর জন্য কোন পরীক্ষা অপরিহার্য, কোনটি ঐচ্ছিক এবং প্রতিটি পরীক্ষার সম্ভাব্য খরচ কত—এসব তথ্য রোগী ও স্বজনদের স্পষ্টভাবে জানানো হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। চিকিৎসার নামে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ সত্য হলে তা অবশ্যই তদন্তের আওতায় আনা উচিত বলে মনে করছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের আরও দাবি, গাজীপুর সিটি ও জেলার বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসা ফি, পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ, রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের পদ্ধতি এবং চিকিৎসাসেবার মান নিয়মিতভাবে তদারকি করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, চিকিৎসা কোনো বিলাসিতা নয়—এটি মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার। একজন অসুস্থ মানুষ যখন চিকিৎসার জন্য ক্লিনিকের দরজায় যান, তখন তার অসহায়ত্বকে যেন অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা না হয়।
সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে গাজীপুরের বিভিন্ন বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি রোগীবান্ধব ও স্বচ্ছ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তাদের প্রত্যাশা, চিকিৎসার নামে যেন কোনো অসুস্থ মানুষের চোখের জল আর পরিবারের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে না যায়। গাজীপুরের স্বাস্থ্যসেবা খাতে কার্যকর নজরদারি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply