1. dailychatoniaymuktijuddha@gmail.com : admin :
August 9, 2026, 3:10 pm
Title :
গাইবান্ধায় আদিবাসী ফোরাম ও বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার কমিটির বিক্ষোভ সমাবেশ বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে জনতার ঢল চলন্ত পিকআপ থেকে পড়ে চালকের সহকারী গুরুতর আহত ফায়ার সার্ভিস এর অবৈধ নিয়োগ ও বদলী বানিজ্য সহ হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামী এবং ওয়ার হাউস থেকে দূর্নীতিবাজ সাময়িক বরখাস্ত মহিউদ্দিন ফকিরহাটে মৎস্যঘেরে কর্মচারীর লাশ উদ্ধার দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর পৃথক ০৪টিঅভিযানে সীমান্তে মদ আটক বালিয়াডাঙ্গীতে বিদ্যালয়ের দোকান দখলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন হরিপুরে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদযাপিত বাঁশখালীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ সরকারের মূল পরিকল্পনার অংশ : প্রধানমন্ত্রী সিংড়ায় ক্ষিদ্রবড়িয়া স্কুলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে জনতার ঢল

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, August 9, 2026
  • 0 Time View

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ বাহারছড়া সমুদ্র সৈকতে হাজারো মানুষের সমাগম, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে নতুন ঘরের চাবি।
বাঁশখালীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় জনপদে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানাতে হাজারো মানুষের ঢল নামে। বাঁশখালী ছাড়াও রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও উত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সড়কের দুই পাশে ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সমবেত হন।
দুপুর সোয়া ১টার দিকে কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সফরসঙ্গী অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বাহারছড়া এলাকায় সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সরকারের পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন। কর্মসূচির আওতায় ১০০টি গৃহহীন ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নতুন ঘর দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাহারছড়া গ্রামে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সরকারের পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন। পরে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পরিবার ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সেখানে একটি মেহগনি গাছের চারাও রোপণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাঁশখালী উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ মাঠেও যান। সেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা বিতরণের কর্মসূচি রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই থেকে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ঘরবাড়ি, পুকুর, জলাশয় ও মৎস্য খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হন বিপুলসংখ্যক মানুষ।
পথে পথে উৎসুক জনতার ভিড়ঃ
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বাঁশখালী ছাড়াও উত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের পথে সমবেত হন। অনেক স্থানে সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায়ও দুপুর থেকেই বিপুলসংখ্যক মানুষ সমবেত হন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। দীর্ঘদিন পর দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় এই জনপদে সরকারপ্রধানের সফর ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়।
মহেশখালী থেকে বাঁশখালীঃ
এর আগে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারের মহেশখালীতে মাতারবাড়ী বহুমুখী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন (মিডা)-এর আওতাধীন মেগা প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করেন। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শনকালে নির্মাণাধীন আধুনিক বন্দরটির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিস্তারিত জানতে চান তিনি।
জাপানের কাশিমা সমুদ্রবন্দরের আদলে নির্মাণাধীন মাতারবাড়ী বন্দরের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মহেশখালীর পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে টেকসই ও যুগোপযোগী উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মহেশখালীতে স্বল্প ব্যয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প নিয়েও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে ফটিকছড়ির উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে পালাহগাজীর দীঘির পাড়সংলগ্ন হেলিপ্যাডে অবতরণের পর মোটরগাড়িতে নাজিরহাটের বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন। সেখানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।
পরে হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির প্রয়াত আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সেখানে ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর নির্মাণে সহায়তা হিসেবে এক লাখ টাকা করে এবং ১৫ জন প্রতিবন্ধীকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
দিনের শেষ কর্মসূচি হিসেবে সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে বিএনপির তৃণমূল, মহানগর ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
প্রধানমন্ত্রীর দিনব্যাপী চট্টগ্রাম সফরকে ঘিরে নগরী, উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। চট্টগ্রামের নাগরিক দুর্ভোগ নিরসন, বন্দরনগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিল্পায়ন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার প্রত্যাশা করছেন চট্টগ্রামবাসী।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ঢাকা থেকে প্রকাশিত  বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা    

© All rights reserved © 2018 News Smart

Themes By ShimantoIT.com