1. dailychatoniaymuktijuddha@gmail.com : admin :
November 7, 2026, 7:34 pm
Title :
দুই চোখে আলো নেই,তবুও মায়ের মুখে খাবার তুলে দিতে প্রতিদিন জীবনসংগ্রাম মোখলেছুরের কেরানীহাটে অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার নাসিরনগরে আব্দুল্লাহ শাহ (রহ.)-এর উরস সম্পন্ন, মাদক ও বাউল গান নিষিদ্ধ বুড়িচংয়ে ইসলামী ফ্রন্টের ২ নং বাকশীমূল ইউনিয়ন কমিটি গঠিত-আহবায়ক মাও:মিজান,সদস্য সচিব:নুরুল কবির ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে পালংখালীবাসীকে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রেজার শুভেচ্ছা ও ঐক্যের আহ্বান দিনাজপুর বীরগঞ্জে কেএফটি কবিরাজহাট ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত দামুড়হুদায় সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক মেম্বারের ইন্তেকাল ময়মনসিংহ বিভাগের শ্রেষ্ঠ গ্রাম পুলিশ নির্বাচিত শেরপুরের মজনু মিয়া সিরাজগঞ্জ অটো টেম্পু ও অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন ৪ ডিসেম্বর – তফসিল ঘোষণা ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মিসেস চামেলি আক্তার প্রিয়া

দুই চোখে আলো নেই,তবুও মায়ের মুখে খাবার তুলে দিতে প্রতিদিন জীবনসংগ্রাম মোখলেছুরের

মিসেস মর্জিনা আক্তার জুসনা
  • Update Time : Saturday, November 7, 2026
  • 9 Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক মিসেস মর্জিনা আক্তার জুসনা

দুই চোখে দৃষ্টিশক্তি নেই। পৃথিবীর আলো-ঝলমলে সৌন্দর্য নিজের চোখে কখনো দেখতে পান না। তবুও জীবনসংগ্রামে থেমে যাননি মোখলেছুর রহমান। নিজের কষ্ট, শারীরিক সীমাবদ্ধতা ও অসহায়ত্বকে জয় করে প্রতিদিন ছুটে চলেছেন কাজের সন্ধানে। তাঁর এই কঠিন পরিশ্রমের একমাত্র উদ্দেশ্য—মায়ের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়া।

জানা যায়, মোখলেছুর রহমানের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলায়। প্রতিদিন সকাল ৯টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন কাজের সন্ধানে। একটি কাঠের মিলে ইটের আঘাতে গাছের ছাল ছাড়ানোর কঠিন কাজ করেন তিনি। সারাদিনের পরিশ্রমে প্রায় এক মণ গাছের ছাল সংগ্রহ করেন। এরপর সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসেন। তাঁর সংগ্রহ করা সেই ছাল তাঁর মা বিক্রি করেন। বিক্রির টাকা দিয়েই চলে তাঁদের খাবারের ব্যবস্থা।

সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী বিষয় হলো, যে মানুষটি নিজের চোখে পৃথিবীর আলো দেখতে পান না, তিনিই প্রতিদিন নিজের কষ্টকে উপেক্ষা করে মায়ের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।

মোখলেছুর রহমানের এই জীবনসংগ্রাম শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়; এটি সন্তানের দায়িত্ববোধ, মায়ের প্রতি ভালোবাসা এবং মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

আমাদের সমাজে অনেক সন্তান রয়েছেন, যাঁদের উপার্জন ও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও মা-বাবার সামান্য চাহিদা পূরণ করতে অনীহা দেখা যায়। অথচ যাঁদের হাত ধরে আমাদের পৃথিবীতে পথচলা শুরু, যাঁদের ত্যাগ ও ভালোবাসায় আমরা বড় হয়েছি, জীবনের শেষ সময়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই সন্তানের অন্যতম বড় দায়িত্ব।

মা-বাবার জন্য সবচেয়ে বড় উপহার দামি বাড়ি কিংবা অর্থসম্পদ নয়; বরং তাঁদের প্রয়োজনের সময় পাশে থাকা, একটু সময় দেওয়া, যত্ন নেওয়া এবং ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখা।

মোখলেছুর রহমানের জীবনসংগ্রাম আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার সম্পদ কিংবা শারীরিক সক্ষমতায় নয়, বরং তার মানবিকতা ও দায়িত্ববোধে।

চোখে আলো না থাকলেও একজন মানুষ হৃদয়ের আলোয় আলোকিত হতে পারেন। আবার চোখে দৃষ্টি থাকলেও কেউ কেউ মানবিকতার অন্ধকারে হারিয়ে যেতে পারেন।

মোখলেছুর রহমানের প্রতি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি তাঁর এই অসাধারণ মাতৃভক্তি আমাদের প্রত্যেকের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে।

আল্লাহ মোখলেছুর রহমানের জীবনসংগ্রাম সহজ করে দিন, তাঁর মাকে সুস্থ রাখুন এবং আমাদের সবাইকে মা-বাবার খেদমত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ঢাকা থেকে প্রকাশিত  বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা    

© All rights reserved © 2018 News Smart

Themes By ShimantoIT.com