
মিসেস চামেলী আক্তার প্রিয়া: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরের আট উপজেলায় ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকায় ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে। নাম ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় সংশোধন, ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবন পরিবর্তন, নতুন কেন্দ্র নির্ধারণ, কেন্দ্র বিলুপ্তি এবং ওয়ার্ড পুনর্গঠনের কারণে ভোটার এলাকা পুনর্বিন্যাসসহ মোট ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই যশোর জেলার ৮১৯টি খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর জন্য ১৮ আগস্ট পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওয়া সাতটি আবেদনের নিষ্পত্তি শেষে পরিবর্তনসহ চূড়ান্ত সম্ভাব্য তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, ‘ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫’ অনুসরণ করে কেন্দ্র নির্ধারণ ও পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সুবিধা, পর্যাপ্ত কক্ষ, যোগাযোগব্যবস্থা, খেলার মাঠ এবং ওয়ার্ডের ভৌগোলিক সীমানাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ শরিফুল ইসলাম জানান, ভোটারদের সুবিধা ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই কেন্দ্রসংক্রান্ত পরিবর্তনগুলো করা হয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক পরিবর্তনের চিত্র
শার্শা—১৯টি পরিবর্তন:
যশোরের আট উপজেলার মধ্যে শার্শায় সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন আনা হয়েছে। উপজেলার ১১৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪টির নাম সংশোধন করা হয়েছে। এর মধ্যে রহিমপুর আলিম মাদ্রাসার নাম পরিবর্তন করে রহিমপুর ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা, লক্ষণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম লক্ষণপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বড় মান্দারতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম বিএম শ্রীকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় করা হয়েছে। একইভাবে ঘিবা দাখিল মাদ্রাসার নাম সংশোধন করে ঘিবা দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা করা হয়েছে।
এ ছাড়া বেনাপোল পৌরসভার সীমানা পরিবর্তন ও অবকাঠামোগত কারণে ধান্যখোলা, উত্তর কাগজপুকুর ও আমড়াখালীর কেন্দ্রগুলোতেও প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করা হয়েছে।
ঝিকরাগাছা—১০টি পরিবর্তন:
এ উপজেলায় আটটি বিদ্যমান কেন্দ্রে পরিবর্তনের পাশাপাশি দুটি স্থানে ভোটার এলাকা পুনর্গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের গত ১১ জুনের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্বাসখোলা ইউনিয়নে ওয়ার্ড পুনর্গঠনের ফলে মির্জাপুর-খরুষা এবং রাজারডুমুরিয়া-বেড়ারুপানি এলাকার ভোটারদের কেন্দ্রসংক্রান্ত তালিকায় পরিবর্তন এসেছে।
মনিরামপুর—৮টি পরিবর্তন:
ভৌগোলিক সীমানা ও যাতায়াত সুবিধা বিবেচনায় আটটি ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে ভোজগাতী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পরিবর্তে টুনিয়াঘরা মহিলা আলিম মাদ্রাসা, শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে শ্রীপুর আদর্শ মহিলা আলিম মাদ্রাসা, বাকোশপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে বাকোশপোল বাগে জান্নাত মহিলা কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানা এবং জালঝাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে জালঝাড়া নুরানী হাফিজিয়া কওমি মাদ্রাসাকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাঘারপাড়া—৫টি পরিবর্তন:
ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধি ও যোগাযোগ সুবিধা বিবেচনায় বন্দবিলা ইউনিয়নের খাজুরা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং রায়পুর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে বিদ্যমান কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া নারিকেলবাড়িয়াতেও ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়েছে।
যশোর সদর—৩টি পরিবর্তন:
ফতেপুর ইউনিয়নের অবকাঠামোগতভাবে দুর্বল একটি ভোটকেন্দ্র সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে লেবুতলা ইউনিয়নে আনসার ভিডিপি ক্লাবের পরিবর্তে একই স্থানে অবস্থিত লেবুতলা দক্ষিণপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের নাম ভোটকেন্দ্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অভয়নগর—৩টি পরিবর্তন:
বাহিরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে বাহিরঘাট মেছেরিয়া দাখিল মাদ্রাসা এবং চেঙ্গুটিয়ার পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবর্তে আরাজি বাহিরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ভোটকেন্দ্র করা হয়েছে। এ ছাড়া ধোপাদী পশ্চিমে অস্তিত্বহীন ব্র্যাক স্কুলের পরিবর্তে সঠিক প্রতিষ্ঠানের নাম সংশোধন করা হয়েছে।
কেশবপুর—৩টি পরিবর্তন:
পর্যাপ্ত কক্ষ, বড় মাঠ এবং প্রধান সড়কের পাশে অবস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় আড়ুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবর্তে আড়ুয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসাকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া শংকরপুর ও হরিদ্রাপোতা ইউনিয়নেও কেন্দ্রসংক্রান্ত সংশোধন করা হয়েছে।
চৌগাছা—৩টি পরিবর্তন:
চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলী, মাড়ুয়া ও হাকিমপুর ইউনিয়নে একটি করে মোট তিনটি ভোটকেন্দ্রের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আবেদন নাকচ, বহাল যদুনাথপুর কেন্দ্র
এদিকে শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের যদুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রটি সরিয়ে বড়বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেওয়ার জন্য স্থানীয় ওসমান গনি গত ১৭ আগস্ট আবেদন করেন।
তবে ২০ আগস্ট সরেজমিন পরিদর্শনে নির্বাচন কর্মকর্তারা দেখতে পান, বর্তমান যদুনাথপুর কেন্দ্রটি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান সড়কের পাশে অবস্থিত। অন্যদিকে প্রস্তাবিত বড়বাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অংশে পড়েছে।
ভৌগোলিক সীমানাজনিত জটিলতা বিবেচনায় নিয়ে আবেদনটি নাকচ করা হয়। ফলে যদুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটিই বহাল রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধা, কেন্দ্রের অবকাঠামো এবং প্রশাসনিকভাবে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করতেই কেন্দ্রগুলোর এই পরিবর্তন ও সংশোধন করা হয়েছে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply