
কামরুল ইসলাম, টেকনাফ, কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের মোছনী এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি বণ্টনকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ছোট ভাই মাস্টার দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি ও কৌশলের মাধ্যমে পৈতৃক সম্পত্তির মূল্যবান অংশ অন্য ওয়ারিশদের বঞ্চিত করে নিজের নামে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জ্যেষ্ঠ ভাই ছাবের হোসেন।
ছাবের হোসেনের দাবি, তাঁদের পিতা মরহুম বশির আহমদের মৃত্যুর পর বিএস খতিয়ান নং-২০১৫-এর ৮টি দাগের সম্পত্তি সব ওয়ারিশের মধ্যে সমভাবে বণ্টনের কথা ছিল। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, মূল্যবান জমির ৪টি দাগে তাঁদের মায়ের অংশ কিনে নেন ছোট ভাই মাস্টার দেলোয়ার হোসেন। এতে অন্যান্য ওয়ারিশের ন্যায্য হিস্যা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাস্টার দেলোয়ার হোসেন। তাঁর দাবি, বসতভিটায় থাকা পাকা বাড়িটি তিনি নিজ অর্থায়নে নির্মাণ করেছেন। ফলে ওই বাড়ির বিষয়ে অন্য ওয়ারিশদের দাবি তিনি মানতে নারাজ। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, তাঁদের বাবা জীবদ্দশায় যাতায়াতের রাস্তার জন্য কিছু জমি দান করেছিলেন। ওই জমি মোট সম্পত্তির হিসাব থেকে বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সম্পত্তি আইনানুগভাবে বণ্টন করা উচিত।
৯ ওয়ারিশের দাবি, সম্পত্তি ১৪২ শতক
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মরহুম বশির আহমদের মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তির বৈধ ওয়ারিশ মোট ৯ জন। তাঁরা হলেন—স্ত্রী বিলকিছ খাতুন; পুত্র শফিকুর রহমান নুরী, ছাবের হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন এবং কন্যা ফাতেমা খাতুন, সেনোয়ারা বেগম, আনোয়ারা বেগম, ছায়া খাতুন ও রাবিয়া বেগম।
অভিযোগকারী পক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিএস খতিয়ান নং-২০১৫ এবং ডিআর খতিয়ান নং-৩২১২-এর আওতায় মরহুম বশির আহমদের নামে মোট ১ একর ৪২ শতক বা ১৪২ শতক জমি রয়েছে।
এ সম্পত্তির আওতাভুক্ত দাগগুলো হলো—২৪০০৬, ২৪০৩৬, ২৪০৩৭ (ভিটা), ২৪০৩৯ (বাড়ি), ২৪১৪৮ (ভিটা), ২৪২১৫ (নাল), ২৪২৬৮ (নাল) ও ২৪২৭৬ (নাল)।
মূল্যবান জমি নিজের নামে নেওয়ার অভিযোগ
জ্যেষ্ঠ ভাই ছাবের হোসেনের অভিযোগ, পরিবারের অন্যান্য ওয়ারিশদের যথাযথভাবে অবহিত না করে ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেন বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নিয়ে খতিয়ানভুক্ত ৮টি দাগের মধ্যে মূল্যবান কয়েকটি দাগের জমি নিজের নামে ক্রয় বা মালিকানা দেখানোর চেষ্টা করেছেন।
এতে পৈতৃক সম্পত্তিতে অন্য ওয়ারিশদের ন্যায্য হিস্যা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
ছাবের হোসেন বলেন, “পৈতৃক সম্পত্তির কোনো নির্দিষ্ট দাগের উর্বর জমি, বসতভিটা কিংবা অধিক মূল্যবান অংশ এককভাবে কোনো একজন ওয়ারিশের দখলে যাওয়ার সুযোগ নেই। আইন ও উত্তরাধিকার বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক ওয়ারিশের হিস্যা নির্ধারণ করে সম্পত্তি বণ্টন করা উচিত।”
অন্যদিকে মাস্টার দেলোয়ার হোসেন অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা, পূর্বের লেনদেন ও বাবার জীবদ্দশায় দেওয়া জমির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আইনানুগভাবে সম্পত্তি বণ্টন করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে বলে জানা গেছে। পৈতৃক সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা, ওয়ারিশদের হিস্যা এবং জমি হস্তান্তরের বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী পক্ষ।
তবে জমির দলিল, খতিয়ান ও নামজারি সংক্রান্ত নথি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।চাইলে এটিকে আমি আরও শক্তিশালী অনুসন্ধানী নিউজ, টিভি রিপোর্টের স্ক্রিপ্ট অথবা শুধু অভিযোগভিত্তিক সংক্ষিপ্ত সংবাদ হিসেবেও সাজিয়ে দিতে পারি।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply