
নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে পারিবারিক কলহ ও টাকা দেওয়া নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে মাদকাসক্ত ছেলের হামলায় আব্দুর রহিম ভূঁইয়া (৫৫) নামের এক ভ্যানচালক বাবার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
আজ রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বেকড়া আটগ্রাম ইউনিয়নের কোনাবাড়ি গ্রামের নিহতের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টার দিকে পেশায় ভ্যানচালক আব্দুর রহিম ভূঁইয়া নিজ ঘরে খাবার খেতে বসেন। এ সময় তার ছেলে অভিযুক্ত মোস্তফা ভূঁইয়া (২২) বাবার কাছে টাকা দাবি করে। টাকা দিতে সামান্য দেরি হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে মোস্তফা ঘরে থাকা শিলপাটা (নোড়া) দিয়ে বাবার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই আব্দুর রহিমের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত মোস্তফা এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরে মাদকে আসক্ত। প্রায় ছয় মাস আগে পার্শ্ববর্তী দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটী এলাকায় সে বিয়ে করে। তবে বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালাত। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সম্প্রতি তার স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যান।
তবে ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে নিহতের স্ত্রী শিরিন বেগম (৫০) ও বড় মেয়ে সালমা (৩০) দাবি করেন, মোস্তফা মানসিক ভারসাম্যহীন। সে মাঝে মাঝেই বাড়িতে অস্বাভাবিক আচরণ করত। ঘটনার সময়ও সে মানসিক আকস্মিকতায় বুঝে ওঠার আগেই শিলপাথর দিয়ে আঘাত করে ফেলে। এটিকে তারা ‘নিছক দুর্ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মো. আব্দুল কদ্দুস জানান, “মোস্তফা মাদকাসক্ত ছিল এবং তার মস্তিষ্কেও কিছু সমস্যা ছিল। টাকা-পয়সা নিয়ে বাবার সাথে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, “ভ্যানচালক রহিম ভূঁইয়াকে তার ছেলে মোস্তফা ভূঁইয়া শিলপাটার পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।”
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বহুল আলোচিত গনমাধ্যম জাতীয় দৈনিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধা পত্রিকা
© All rights reserved © 2018 News Smart
Leave a Reply