নিজস্ব প্রতিবেদক:মিসেস শরিফা আক্তার ময়না
বগুড়ার শেরপুরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। জীবনের শেষ সময়ে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন মেধাবী শিক্ষার্থী মোছা. সুমাইয়া খাতুন (১৯)। কিন্তু জীবনের কাঙ্ক্ষিত এই সাফল্যের ফল নিজ চোখে দেখে যেতে পারেননি তিনি। ফল প্রকাশের আগেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন সুমাইয়া। একই সঙ্গে না-ফেরার দেশে চলে গেছেন তাঁর গর্ভে থাকা তিন অনাগত সন্তানও। তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত অসাধারণ ফলাফল এখন পরিবারের কাছে আনন্দের বদলে গভীর শোক ও বেদনার স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুমাইয়া খাতুন বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার শালফা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষায় তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁর পরীক্ষার রোল নম্বর ৪১২৭৯৪। ১০টি বিষয়ের মধ্যে ৯টিতে এ প্লাস এবং বাকি একটিতে এ গ্রেড অর্জন করেন তিনি। মূল জিপিএ ৪.৮০ হলেও ঐচ্ছিক বিষয়সহ তাঁর চূড়ান্ত জিপিএ দাঁড়িয়েছে ৫.০০।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন সুমাইয়া। তিনি শেরপুর উপজেলার শালফা এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেন ও মোছা. রেশমা খাতুনের মেয়ে। একই উপজেলার শুভগাছা গ্রামের আব্দুল মতিনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।
জানা যায়, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যান সুমাইয়া। গর্ভে ছিল তাঁর তিনটি সন্তান। সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য সময়ের মাত্র ২০ দিন আগে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর মাত্র ১৯ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই গর্ভের তিন সন্তানও পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মারা যায়।
একদিকে নিজের শিক্ষাজীবন শেষ করে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন, অন্যদিকে অনাগত তিন সন্তানকে ঘিরে মাতৃত্বের নতুন প্রত্যাশা—সবকিছুই ছিল সুমাইয়ার জীবনে। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিণতিতে থেমে যায় তাঁর সব স্বপ্ন ও সম্ভাবনা।
পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর জিপিএ-৫ অর্জনের খবর পরিবারকে গর্বিত করেছে ঠিকই, কিন্তু সেই সাফল্যের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মানুষটি আজ আর নেই। যে মেয়েকে ঘিরে পরিবারের সদস্যদের ছিল অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা, সেই মেয়ের কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল এখন স্বজনদের চোখে আনন্দের অশ্রুর বদলে বেদনার অশ্রু ঝরাচ্ছে।
সুমাইয়ার এই অর্জন প্রমাণ করে, প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁর পড়াশোনার প্রতি ছিল প্রবল আগ্রহ ও অদম্য মনোবল। জীবদ্দশায় নিজের সাফল্য দেখে যেতে না পারলেও তাঁর জিপিএ-৫ অর্জন পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: - ইসলামী স্কলার আলহাজ্ব জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল ★ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: -কাজী মোস্তফা রুমি★ উপ সম্পাদক: -দেওয়ান কামরুজ্জামান কাজল★নির্বাহী সম্পাদক: ডাঃ মোঃ শাহীন মিয়া, ★বার্তা সম্পাদক: দেওয়ান মনিজা বেগম ★সহ বার্তা সম্পাদিকা: ★বিজ্ঞাপন বিষয়ক সম্পাদিকা: মিসেস প্রিয়া আক্তার। ফোন:+৮৮ ০১৭১৯১৪৫৩১৯ +৮৮০১৭১৫৬৭২০৯৭
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬