বিশেষ প্রতিনিধি, উখিয়া (কক্সবাজার)ঃ কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় রাসায়নিক সারের ডিলারশিপ নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতি, অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার রাজাপালং ও রত্নাপালং ইউনিয়নে একটি নির্দিষ্ট পরিবারের তিন সদস্যকে সারের ডিলারশিপ প্রদান করায় স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজাপালং ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে সারের ডিলার হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন স্থানীয় আহাম্মদ কবির। তার বিরুদ্ধে পূর্বে এক ট্রাক সার পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, নতুন ডিলারশিপ নিয়োগে এই অনিয়মের মাত্রা আরও এক ধাপ বেড়েছে। রাজাপালং ইউনিয়নের ডিলার আহাম্মদ কবিরের আপন ভাই শামসুল আলমকে নতুন করে পার্শ্ববর্তী রত্নাপালং ইউনিয়নে সারের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজাপালং ইউনিয়নের জন্য প্রকাশিত প্রথম গেজেটে উপজেলা সার মনিটরিং কমিটির ১ নং সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী ছিলেন সাইফুর রহমান। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, তবে পরের দিন প্রকাশিত গেজেটে তার নাম তালিকার শীর্ষ থেকে কর্তন করা হয় এবং চূড়ান্ত তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়। সাইফুর রহমানের নাম কর্তন করে সেখানে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে আহাম্মদ কবিরের জামাতা কামরুল ইসলামকে।
একই পরিবারের দুই ভাই ও এক জামাতা মিলে উখিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নে তিনটি ডিলারশিপ নিয়ন্ত্রণ করায় কৃত্রিম সংকট ও শক্তিশালী সার সিন্ডিকেট তৈরির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
তৃণমূলের প্রান্তিক কৃষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় উখিয়া থেকে মিয়ানমারে সার পাচারের ঝুঁকি সবসময়ই বেশি। যাদের বিরুদ্ধে অতীতে সার পাচারের মামলা রয়েছে, তাদের হাতেই পুনরায় সার বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। পুরো সারের বাজার একটি পরিবারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়লে আমরা ন্যায্য মূল্যে সার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হব।"
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আহাম্মদ কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমি ১৯৯০ সাল থেকে রাজাপালংয়ে বসবাস করছি এবং এখানকার ভোটার। আমি ও আমার ভাই দীর্ঘদিন ধরে আলাদা থাকি। নীতিমালা অনুযায়ী তদন্ত কর্মকর্তা তাদেরকে ডিলারশিপ দিয়েছেন। তাদের আবেদনের বিষয়ে আমি আগে থেকে কিছু জানতাম না এবং এই নিয়োগের সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।"
সার ডিলার নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশিস্ সরকার জানান, "তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটি সুপারিশ প্রদান করেছে। তবে নীতিমালায় একটি বিষয় স্পষ্ট—নতুন আবেদনকারীরা পুরাতন ডিলারের আয়ের ওপর নির্ভরশীল কি না। তারা যদি পৃথক পরিবার বা স্বতন্ত্র হন এবং তদন্ত কর্মকর্তা যদি উপযুক্ত মনে করেন, তবে নিয়োগে কোনো আইনি বাধা থাকে না।"
এদিকে উখিয়ার সর্বস্তরের জনগণ ও সচেতন মহল উক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। প্রথম গেজেটের শীর্ষ সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর নাম বাদ পড়ার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে এবং সার বাজারকে সিন্ডিকেটমুক্ত রাখতে জেলা ও উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন এবং সার মনিটরিং কমিটির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: - ইসলামী স্কলার আলহাজ্ব জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল ★ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: -কাজী মোস্তফা রুমি★ উপ সম্পাদক: -দেওয়ান কামরুজ্জামান কাজল★নির্বাহী সম্পাদক: ডাঃ মোঃ শাহীন মিয়া, ★বার্তা সম্পাদক: দেওয়ান মনিজা বেগম ★সহ বার্তা সম্পাদিকা: ★বিজ্ঞাপন বিষয়ক সম্পাদিকা: মিসেস প্রিয়া আক্তার। ফোন:+৮৮ ০১৭১৯১৪৫৩১৯ +৮৮০১৭১৫৬৭২০৯৭
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬