নিজস্ব প্রতিনিধি: মোঃ আব্দুল হালিম
রংপুরের পীরগাছা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অন্য দলিল লেখকের লাইসেন্স নম্বর ব্যবহার করে জমির দলিল রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ উঠেছে দলিল লেখক মো. আবেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিতর্কিত সম্পত্তি পুনরায় রেজিস্ট্রি করার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. আব্দুস সোবহান।
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলার অভিরাম গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে মো. আব্দুস সোবহান ১৯৯১ সালে ৫৫৭৪ নম্বর দলিলের মাধ্যমে ৫.৫০ শতক জমি ক্রয় করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি জানতে পারেন, ওই জমির বিক্রেতা মো. জহুরুল ইসলাম ১৯৮৯ সালেই একই জমি তাঁর স্ত্রী মোছা. গুলশানারা বেগমের নামে হেবা দলিল করে দিয়েছেন।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন আব্দুস সোবহান। তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এ-সংক্রান্ত ৩১৮/২৫ নম্বর মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
মামলা চলাকালে জমি পুনরায় রেজিস্ট্রির অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ৪৯৭৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে বিতর্কিত জমিটি পুনরায় রেজিস্ট্রি করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলিল লেখক মো. আবেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আবেদুল ইসলামের নিজস্ব লাইসেন্স নম্বর ৯৫ হলেও সংশ্লিষ্ট দলিল সম্পাদনের কাজে আজিজ মুহুরী নামের অপর এক দলিল লেখকের ৬৬ নম্বর লাইসেন্স ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে অন্যের লাইসেন্স নম্বর ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স রেজিস্টার, দলিলের মূল নথি ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন।
সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
ভুক্তভোগী মো. আব্দুস সোবহানের অভিযোগ, আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিতর্কিত জমি পুনরায় রেজিস্ট্রি হওয়ায় তিনি সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দলিল ও লাইসেন্স-সংক্রান্ত অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত দলিল লেখক মো. আবেদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, পীরগাছা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে বিতর্কিত দলিলের মূল নথি, দলিল লেখকদের লাইসেন্স-সংক্রান্ত রেকর্ড এবং আদালতে বিচারাধীন মামলার নথি পর্যালোচনা করা জরুরি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: - ইসলামী স্কলার আলহাজ্ব জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল ★ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: -কাজী মোস্তফা রুমি★ উপ সম্পাদক: -দেওয়ান কামরুজ্জামান কাজল★নির্বাহী সম্পাদক: ডাঃ মোঃ শাহীন মিয়া, ★বার্তা সম্পাদক: দেওয়ান মনিজা বেগম ★সহ বার্তা সম্পাদিকা: ★বিজ্ঞাপন বিষয়ক সম্পাদিকা: মিসেস প্রিয়া আক্তার। ফোন:+৮৮ ০১৭১৯১৪৫৩১৯ +৮৮০১৭১৫৬৭২০৯৭
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬