কার্ড বাণিজ্য, প্রতিনিধি নিয়োগ ও পদ দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ
অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা। পেশাগত জীবনে কখনো দর্জির কাজ, আবার কখনো সাপ ধরে জীবিকা নির্বাহ—এমন পেশাগত পরিচয় থেকে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে দুটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক এবং একটি মানবাধিকার সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হওয়ার ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী সুমন নামে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র বিতরণ, প্রতিনিধি নিয়োগ এবং মানবাধিকার সংগঠনের বিভিন্ন পদ দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে জাতীয় দৈনিক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার দাবিও।
দুটি সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক কীভাবে?
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ অনুযায়ী, আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী সুমন ‘দৈনিক সকালের পত্রিকা’ ও ‘দৈনিক দিগন্ত সংবাদ’ নামে দুটি অনলাইন পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সংবাদমাধ্যমের নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিধি নিয়োগের সময় ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তিকে অর্থের বিনিময়ে সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ।
মানবাধিকার সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়েও প্রশ্ন
সুমন ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা কেন্দ্র’ (আসক)-এর যুগ্ম মহাসচিব পদে রয়েছেন বলে পরিচয় দেওয়া হচ্ছে। এই পদে তার নিয়োগের প্রক্রিয়া, যোগ্যতা এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।
অভিযোগ রয়েছে, সংগঠনটির বিভিন্ন পদ দেওয়ার ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেন হয়েছে। তবে এই অভিযোগেরও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়েও বিতর্ক
সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে সুমনের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, তার কোনো বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। তবে সরকারি নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ফলে NID-সংক্রান্ত দাবিটি নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের নথি যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র নিয়ে উদ্বেগ
সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। এই পেশার পরিচয়পত্র অর্থের বিনিময়ে বিতরণ করা হলে তা শুধু পেশাটির মর্যাদাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং পরিচয়পত্রের অপব্যবহারের সুযোগও তৈরি করতে পারে।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সচেতন মহলের কয়েকজনের মতে, সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র, সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় দায়িত্ব এবং মানবাধিকার সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও সাংগঠনিক বৈধতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তাদের মতে, কারও বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ লেনদেন বা পদ বাণিজ্যের অভিযোগ থাকলে সামাজিকভাবে দোষী সাব্যস্ত না করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করা উচিত।
তদন্তের দাবি
আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী সুমনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, তার সম্পৃক্ত সংবাদমাধ্যমগুলোর বৈধতা ও কার্যক্রম যাচাই, প্রতিনিধি নিয়োগ ও পরিচয়পত্র বিতরণে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা এবং মানবাধিকার সংগঠনে তার পদ পাওয়ার প্রক্রিয়া যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন কয়েকজন সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিক।
একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।
তবে তদন্ত বা আদালতের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী সুমনকে কোনো অপরাধে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের নথিপত্র এবং ‘আসক’-এর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনের পরবর্তী অংশে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: - ইসলামী স্কলার আলহাজ্ব জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল ★ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: -কাজী মোস্তফা রুমি★ উপ সম্পাদক: -দেওয়ান কামরুজ্জামান কাজল★নির্বাহী সম্পাদক: ডাঃ মোঃ শাহীন মিয়া, ★বার্তা সম্পাদক: দেওয়ান মনিজা বেগম ★সহ বার্তা সম্পাদিকা: ★বিজ্ঞাপন বিষয়ক সম্পাদিকা: মিসেস প্রিয়া আক্তার। ফোন:+৮৮ ০১৭১৯১৪৫৩১৯ +৮৮০১৭১৫৬৭২০৯৭
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬